অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক বসিয়েছে পাকিস্তান

বাংলাদেশ থেকে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানির ওপর সম্প্রতি অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে পাকিস্তান। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি একথা বলেন। পাকিস্তানের এ ধরনের পদক্ষেপ বাণিজ্য বিকাশে বাধা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সচিবালয়ে ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক উপাদান। ভারত ও পাকিস্তানের বস্ত্রশিল্পে বাংলাদেশি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের চাহিদা বেশ ভালো। পাকিস্তানের দুটি কোম্পানিও এই রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন করে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই পাকিস্তান এই শুল্ক আরোপ করেছে।

উৎপাদনকারী দেশ তার নিজস্ব বাজারের চেয়ে কম দামে অন্য দেশে পণ্য রপ্তানি করলে সেটাকে বলা হয় ডাম্পিং। তখন আমদানিকারক দেশ ওই পণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে পারে। তবে এজন্য দেশটিকে নিজস্ব শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ দেখাতে হয়। পাকিস্তানের দাবি, বাংলাদেশ থেকে ডাম্পিংয়ের কারণে সে দেশের কোম্পানিগুলোর মুনাফা, উৎপাদিত পণ্যের দাম ও উৎপাদনশীলতা কমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানি হয়, তার ৮০ শতাংশের বেশি যায় পাকিস্তান ও ভারতে, যা থেকে বছরে আয় হয় প্রায় ১ কোটি ডলার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী আশাবাদী যে, আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যকার বিরাজমান যেকোনো সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। সে অনুযায়ী দুই দেশের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠকে এই সমস্যারও সমাধান করা সম্ভব।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বেড়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। সেগুলো দূর করা গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরো বাড়বে। ব্যবসায়ীরা পারস্পরিক দেশ সফর করে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে পারেন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন করে এগিয়ে যেতে চায়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here