অব্যাহতভাবে বরফ গলতে থাকায় জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে আর্কটিক। এই সুযোগে অধিক সংখ্যক জাহাজ এর জলপথ পাড়ি দিচ্ছে। পাড়ি দেওয়ার সময় এসব জাহাজ জলবায়ুর উষ্ণতার জন্য দায়ী বিভিন্ন উপাদান ছড়িয়ে দিচ্ছে আর্কটিকের পরিবেশে। ফলে তা আর্কটিক ও তার বাস্তুতন্ত্রের জন্য আরও বিপর্যয় বয়ে আনছে।
বরফাচ্ছাদিত অঞ্চলটির সাইবেরিয়ার উপকূল বরাবর ব্যস্ততম লেনটি দিয়ে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জাহাজ চলাচল ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। নরওয়ের নর্ড ইউনির্ভাসিটির সেন্টার ফর হাই নর্থ লজিস্টিকসের গবেষকদের সংগৃহীত উপাত্ত বলছে, গত বছর নর্দান সি রুট দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জাহাজ সাকল্যে ২ হাজার ৬৯৪টি যাত্রা করেছে।
এই পথে বাণিজ্য পরিচালিত করছে মূলত রাশিয়া, চীন ও কানাডার পণ্য উৎপাদকরা। আর্কটিকের জলপথ দিয়ে আকরিক লোহা, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও অন্যান্য জ্বালানি পাঠাচ্ছে তারা।
কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের গতি কমিয়ে আনলেও আর্কটিক দিয়ে জাহাজের চলাচলে রাশ টানতে পারেনি। বরং ২০২০ সালের প্রথমার্ধে জলপথটি দিয়ে জাহাজগুলো ৯৩৫টি যাত্রা সম্পন্ন করেছে। যদিও পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যেখানে ৮৫৫টি যাত্রা সম্পন্ন করেছিল জাহাজগুলো।
আর্কটিকে জল মাড়িয়ে জাহাজ চলাচলের এই যে উল্লম্ফন, তাতে চাপ বাড়ছে পরিবেশের ওপর। বৃহদাকারের এইসব জাহাজ জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে জলবায়ুকে উষ্ণ করার জন্য দায়ী কার্বন ডাই-অক্সাইড ও ব্ল্যাক সুট (জ্বালানি অসম্পূর্ণ দহনের ফলে সৃষ্ট কালো দ্রব্য) পরিবেশে ছেড়ে দিচ্ছে। এসবে সুট আশপাশের বরফগুলোকে ঢেকে দিচ্ছে এবং সূর্য্যরশ্মি প্রতিবিম্বিত হয়ে বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার পরিবর্তে সুটগুলোতে আটকে থাকছে, যা এই অঞ্চলের উষ্ণতা বৃদ্ধিতে গতি সঞ্চার করছে।
এমনিতেই গত তিন দশকে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল যতটা উষ্ণ হয়েছে, আর্কটিক উষ্ণ হয়েছে অন্তত তার দ্বিগুণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে সরকারগুলো আর্কটিকের জলপথ জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার তোড়জোড়ে গতি এনেছে।
ক্লিন আর্কটিক অ্যালায়েন্সের প্রধান উপদেষ্টা সিয়ান প্রায়র যেমনটা বলছিলেন-আর্কটিকের বরফের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং একই সাথে এই পথে জাহাজ চলাচল বেড়ে যাওয়াটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা সেটা ঘটতে দেখছি।
নর্দান সি রুট দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি এলএনজি ট্যাংকার। ২০১৯ সালে কেবল এ ধরনের জাহাজই ২ লাখ ৩৯ হাজার টন জ্বালানি পুড়িয়েছে। ২০১৭ সালেও যেখানে এলএনজি ট্যাংকারগুলো পুড়িয়েছিল মাত্র ছয় হাজার টন জ্বালানি। তথ্যটি দিয়েছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশন (আইসিসিটি)।
বরফ গলায় রেকর্ড
নর্দান সি রুট এই অঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ততম জলপথ। শিপিং বিশেষজ্ঞদের হিসাব বলছে, জলপথটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী কার্গো জাহাজের সময় অন্ততপক্ষে ১০ দিন কমিয়ে দিয়েছে। আফ্রিকা হয়ে চলাচল করলে কার্গো জাহাজকে যে দূরত্ব পাড়ি দিতে হয়, এই পথে গেলে দূরত্ব তার চেয়ে ছয় হাজার নটিক্যাল মাইল কমে আসে। আর সুয়েজ খালের চেয়ে দূরত্ব কমে ২ হাজার ৭০০ নটিক্যাল মাইল।
স্বল্প দূরত্বের কারণে ২০১৯ সালে আর্কটিকের জলপথ দিয়ে বিভিন্ন জাহাজ সর্বমোট ২ হাজার ৬৯৪টি যাত্রা সম্পন্ন করেছে। ২০১৮ সালে যেখানে এ পথে ২ হাজার ২২, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৯০৮ ও ২০১৬ সালে ১ হাজার ৭০৫টি যাত্রা সম্পন্ন হয়েছিল। প্রতি বছর ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই সংখ্যক যাত্রা করেছে।
চলতি বছরের পরিবেশটা একটু অন্যরকম। রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলে এ বছর অস্বাভাবিক গরমের কারণে সাইবেরিয়ার বরফখ- আগেভাগেই গলতে শুরু করেছে। বিজ্ঞানীদের ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত এই তাপদাহ জুলাইয়ের শেষ ভাগে এসে নর্দান সি রুট উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তবে এলাকাটিতে বরফ গলার পুরোপুরি হিসাব এখনো করে ওঠা যায়নি। গ্রীষ্মকালীন তাপ বরফের স্তরকে আরো সংকুচিত করে আনবে। তখন জাহাজ চলাচলও আরো বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অঞ্চলটির জলপথে জাহাজ চলাচলের সংখ্যার হিসাবে গত বছর ব্যস্ততম মাস ছিল সেপ্টেম্বর। শিপিং ইন্টেলিজেন্স প্লাটফর্ম মেরিটাইম ট্রাফিকের তথ্যমতে, মাসটিতে নর্দান সি রুট অতিক্রম করেছিল মোট ৩৪টি জাহাজ। আগের বছরের একই মাসে যেখানে ২৯টি জাহাজ রুটটি পাড়ি দেয়।
তবে নর্দান সি রুটের বাইরেও জাহাজ চলাচল বাড়তে শুরু করেছে। আন্তঃসরকার সংস্থা আর্কটিক কাউন্সিল ওয়ার্কিং গ্রুপের গবেষণা বলছে, ২০১৯ সালে আর্কটিক অঞ্চলে প্রবেশ করেছে মোট ১ হাজার ৬২৮টি জাহাজ। ২০১৩ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেশি।
নর্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হাই নর্থ লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিয়েল স্টকভিক বলছিলেন, কয়েক বছর ধরেই আমরা আর্কটিকে জাহাজ চলাচল বাড়তে দেখছি। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও খনিজ কার্গোর চাহিদা থাকা পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
স্টকভিকের মতে, বিশেষভাবে বললে, আর্কটিকে জ্বালানি ও খনিজ-সংশ্লিষ্ট প্রকল্প উন্নয়নের ম্ধ্যামে রাশিয়া এই অঞ্চল দিয়ে পরিচালিত বাণিজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২৫ সাল নাগাদ নর্দান সি রুট দিয়ে বার্ষিক আট কোটি টন কার্গো পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, বর্তমানে পরিবাহিত কার্গোর যা প্রায় দ্বিগুণ।
দুই মেরুর দুই রকমের গল্প
জাহাজ চলাচলের কারণে আর্কটিকে জলে জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করছেন পরিবেশবাদীরা। এমনটা হলে বৈরী পরিবেশের কারণে তেল সরানোর কাজ কঠিন হয়ে পড়বে এবং নিঃসরিত জ্বালানি তেল অঞ্চলটির সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
এ ধরনের নজির যে একেবারে নেই তা নয়। ১৯৮৯ সালে এক্সন ভালদেজ ট্যাংকার থেকে দক্ষিণ আলাস্কায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ে এবং ১ হাজার ৩০০ মাইল উপকূলজুড়ে মাসব্যাপী তা থেকে যায়। এতে বিপুল সংখ্যক সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদ মারা পড়ে।
দুর্ঘটনাটিকে এখন পর্যন্ত মানবসৃষ্ট সবচেয়ে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, শেষ পর্যন্ত যা এই অঞ্চলে ডাবল-হাল জাহাজের বিধান তৈরিতে বাধ্য করে।
অ্যান্টার্টিকার জলসীমার সুরক্ষায় রয়েছে কঠোর নিয়ন্ত্রমূলক ব্যবস্থা। দক্ষিণের বিক্ষুব্ধ জলপথে কোনো ধরনের কার্গো চলাচল না করা সত্ত্বেও ২০১১ সালে সেখানে হেভি-গ্রেড জ্বালানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আর্কটিকের ক্ষেত্রে হয়েছে ঠিক এর উল্টোটা। এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত যে নিয়ম-কানুন তা একদমই ঢিলেঢালা।
উভয় মেরুর জলপথই নিয়ন্ত্রিত হয় ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) পোলার কোড অনুযায়ী। কোডে আর্কটিক অঞ্চল দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে হেভি ফুয়েল অয়েল (এইচএফও) পরিবহনে নিরুৎসাহিত করা হয়। আইএমও এখন চেষ্টা করছে ২০২৪ সালের মধ্যে আর্কটিক অঞ্চল দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে এইচএফও পরিবহন ও ব্যবহার দুটোই পুরোপুরি বন্ধ করতে। পরিবেশগত সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব থেকে আর্কটিক অঞ্চলকে বাঁচাতেই এই উদ্যোগ বলে জানান আইএমওর মুখপাত্র।
তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবাদীরা। তাদের যুক্তি, আইএমওর সদস্য দেশগুলো যে খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা করছে তাতে আর্কটিক উপকূলবর্তী দেশগুলোর পতাকাবাহী জাহাজকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আইনের বড় ধরনের এই ফাঁকফোকর নীতিমালাটিকে কার্যত অর্থহীন করে তুলবে বলে মনে করেন ক্লিন আর্কটিকের উপদেষ্টা সিয়ান প্রায়র।
পরিবেশবাদী এই কর্মী বলেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক, সুনির্দিষ্ট করে বললে আর্কটিকে চলাচলকারী প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জাহাজকে ২০২৯ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হবে না। বর্তমান খসড়াটি চূড়ান্ত রূপ পেলে এখনকার মতোই নির্বি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে তারা।
এ ধরনের সুযোগ প্রস্তাবিত নীতিমালার উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করবে কিনা?-এই প্রশ্নের উত্তরে আইএমওর মুখপাত্র কেবল বলেন, সংশ্লিষ্ট ফোরামে আলোচনার পর আইএমওর সদস্য দেশগুলোই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
খসড়ায় যত ফাঁকফোকর
আর্কটিকে চলাচলকারী জাহাজে এইচএফওর ব্যবহার বন্ধ-সংক্রান্ত খসড়াটি কার্যকর হবে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে। তবে আর্কটিক অঞ্চলের দেশগুলো এই বিধিবিধান থেকে ২০২৯ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত পাবে। এটা আরো অধিক সংখ্যক জাহাজকে এইচএফও ব্যবহারে উৎসাহিত করবে এবং আর্কটিকের পানি দূষণ চলতেই থাকবে। আর্কটিক রক্ষায় এতদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশন (আইসিসিটি) সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা হিসাব করে দেখিয়েছে, ২০১৯ সালেও যদি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যেত তাহলেও আর্কটিকে চলাচলকারী তিন-চতুর্থাংশ জাহাজ এখনো এইচএফও পরিবহন বা জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ পেত। এখন যেহেতু আর্কটিকে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে; স্বাভাবিকভাবেই বলা যায় নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা জাহাজের সংখ্যাও একইভাবে বাড়বে। এর ফলে হয়তো নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকারিতা হারাবে।
আর্কটিকে চলাচলকারী জাহাজে এইচএফও পরিবহন ও ব্যবহার বন্ধের প্রস্তাবটি দিয়েছে ফিনল্যান্ড, জার্মানি, আইসল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবের পেছনে তাদের যুক্তি হচ্ছে আর্কটিকে কোনোক্রমে যদি তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটে, তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। আর্কটিকের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘদিন এর প্রভাব থেকে যাবে।
কিন্তু রাশিয়া এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। যুক্তি তুলে ধরে তারা বলে, নিষেধাজ্ঞাটি এই অঞ্চলের স্থানীয় জনগণ ও শিল্পের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। কারণ এখানকার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে জ্বালানি তেল, খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম জাহাজ। তাই তেল নিঃসরণের ঝুঁকি হ্রাসের কথা ভেবে জাহাজে এইচএফও ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত কতটা সুফল বয়ে আনবে, সেটি পরিষ্কার নয়।
রাশিয়ার যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে আর্কটিকের উপকূলবর্তী যেসব দেশ তাদের জলসীমায় জাহাজ পরিচালনা করছে, তাদেরকে ২০২৯ সালের জুলাই পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে খসড়ায়। আইসিসিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে যদি নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর করা যেত, তাহলে আর্কটিকের জলসীমায় চলাচলের উপযোগী জাহাজের সংখ্যা দাড়াতে ৩৬৬টিতে। এর মধ্যে ৩২৫টিই রাশিয়ার পতাকাবাহী। এসব জাহাজের সবই যে আর্কটিক সম্প্রদায়ের মানুষদের পণ্য সরবরাহে নিয়োজিত, এমনটি নয়। অনেকে আর্কটিক থেকে সম্পদ আহরণ করে অন্যত্র তা পরিবহনও করছে।
আইসিসিটি তাদের গবেষণায় আরো দেখিয়েছে, নিষেধাজ্ঞাটি ২০১৯ সালে কার্যকর হলে এইচএফও পরিবহন কমতো ৩০ শতাংশ। এবং আর্কটিকের জলপথে চলাচলকারী জাহাজের জ্বালানি হিসেবে এর ব্যবহার হ্রাস পেত ১৬ শতাংশ। সেই সাথে কার্বন নিঃসরণ কমতো ৫ শতাংশ। তবে ছাড় না দিলে এর প্রভাবটা হতো ব্যাপক। সেক্ষেত্রে জ্বালানি হিসেবে এইচএফওর ব্যবহার ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতো। এর ফলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা যেত এক-পঞ্চমাংশের বেশি।
এখন অবস্থা যা দাঁড়াচ্ছে, তাতে করে নতুন নতুন বাল্ক ক্যারিয়ার ও অয়েল ট্যাংকার আর্কটিকের জলে নামছে। অব্যাহতির সুযোগ নিয়ে ২০২৯ সালের জুলাই পর্যন্ত এসব জলযান এইচএফও পরিবহনের পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে তা ব্যবহারও করবে। একে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলছেন পরিবেশবাদীরা।
ক্লিন আর্কটিক অ্যালায়েন্সের উপদেষ্টা সিয়ান প্রায়রের মতে, চূড়ান্ত খসড়ায়ও যদি অব্যাহতির সুযোগ বহাল থাকে, তাহলে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি যখন এটি কার্যকর হবে তখন এর ফল হবে সামান্যই। তাই সব ধরনের অব্যাহতির সুযোগ বাতিল করে নীতিমালাটি আরও কঠোর করতে হবে।