চট্টগ্রাম বন্দরে বসবে ৪টি নতুন স্ক্যানার

চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ানো ও মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য খালাস রোধে ৪টি অত্যাধুনিক ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার বসাতে কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৬৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৩টি ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার ক্রয় ও প্রতিস্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে ৬টি স্ক্যানার মেশিন বসানো হবে। যার ৪টি স্ক্যানারই বসবে চট্টগ্রাম বন্দরে। বেনাপোল এবং ভোমরা স্থলবন্দরে একটি করে স্ক্যানার স্থাপন করা হবে।

আধুনিক প্রযুক্তির স্ক্যানারগুলো এক্স-রে বা গামা-রশ্মি ইমেজিং প্রক্রিয়ায় কনটেইনার খোলা ছাড়াই এর ভেতরের রঙিন ছবি তুলতে পারবে। এসব মেশিনে স্ক্যানার ছাড়াও কনটেইনারের ওজন পরিমাপ, রেডিও পোর্টাল মনিটর এবং ইমেজিং সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নতুন স্ক্যানারগুলো ‘বোথ ওয়ে’ স্ক্যান ডিরেকশনে স্ক্যানিং করতে সক্ষম। অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানি উভয় কনটেইনার স্ক্যানিং করা যাবে এই মেশিনগুলো দিয়ে। ইতিমধ্যে নতুন এই ৬টি স্ক্যানার সংগ্রহ, প্রতিস্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দরপত্র আহ্বান করেছে। এ কাজে অভিজ্ঞ সংস্থাগুলোকে সাইট ভিজিট করে পর্যাপ্ত ধারণা নিয়ে ও আধুনিক মেশিনগুলোর সক্ষমতা সঠিকভাবে যাচাইয়ের পর দরপত্র জমাদানে উৎসাহী করছে এনবিআর। ডিসেম্বরের মধ্যে যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাই করে তাদের কার্যাদেশ দেওয়া ও আগামী বছরের মাঝামাঝি স্ক্যানার মেশিনগুলো স্থাপন করে চালু করা যাবে বলে জানিয়েছে এনবিআর সূত্র।

প্রথম ধাপে এই ৬টি কনটেইনার স্ক্যানার সফলভাবে প্রতিস্থাপন ও চালুর পর দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৭টি কনটেইনার স্ক্যানার ক্রয়ের কথা জানিয়েছে এনবিআর। সেই ৭টি থেকেও বেশ কয়েকটি চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।

সরকার ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ‘অর্থ আইন-২০১৯’ এ বোঝাই পণ্য কনটেইনার বাধ্যতামূলক বৈদ্যুতিক স্ক্যানিংয়ের আওতায় আনার বিধান চালু করে। বিধান অনুযায়ী সরকারি আদেশে অব্যাহতি ব্যতিরেকে কোনো চালানকে বৈদ্যুতিক স্ক্যান ছাড়া কোনো শুল্ক বন্দর বা শুল্ক স্টেশন থেকে ছাড়ানো যাবে না। বৈদ্যুতিক স্ক্যানিং সিস্টেমের অভাবে কায়িক পরীক্ষা করে চালান খালাসের বিধানও রাখা হয়েছে। অপ্রতুল স্ক্যানার মেশিনের কারণে এখনো সারা দেশের কাস্টম হাউসগুলো আমদানি করা চালানের ১০-১৫ শতাংশ কায়িকভাবে পরীক্ষা করে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২টি গেটে স্ক্যানার আছে ৭টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ১ নম্বর গেট এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ৩ নম্বর গেটে আছে ‘এফএস ৬০০০’ সিরিজের অত্যাধুনিক ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ২, ৪ ও ৫ নম্বর গেটে আছে একটি করে ‘এফএস ৩০০০’ মডেলের ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। এছাড়া সিসিটি ২ ও জিসিবি ২ নম্বর গেটে রয়েছে একটি করে মোবাইল স্ক্যানার। তবে পুরোনো কয়েকটি স্ক্যানার মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে গিয়ে স্ক্যানিংয়ের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here