চলমান কঠোর লকডাউন ও ঈদের ছুটিতে সৃষ্ট কনটেইনারের চাপ সামলাতে চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা সব ধরনের পণ্যের কনটেইনার বেসরকারি আইসিডিতে সাময়িক সংরক্ষণ, আনস্টাফিং ও খালাসের অনুমতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের প্রেক্ষিতে ২৫ জুলাই এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) মোহাম্মদ মেহরাজ-উল-আলম সম্রাট স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বলবৎ রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউ কনটেইনার ধারণক্ষমতার চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫ জুলাই পর্যন্ত কনটেইনার ছিল ৪৩ হাজার ৫৭৪ টিইইউ। অন্যদিকে বেসরকারি ১৯টি অফডকের মধ্যে অপারেশনে থাকা ১৭টি অফডকের ৭৮ হাজার ৭০০ টিইইউ কনটেইনার ধারণক্ষমতার বিপরীতে রোববার পর্যন্ত কনটেইনার ছিল ৫৩ হাজার ৮৬৪ টিইইউ। অর্থাৎ এনবিআরের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে অফডকে খালি থাকা ২৪ হাজার ৮৩৬ টিইইউ কনটেইনারের জায়গায় চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারগুলো স্থানান্তর করতে পারবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ পূর্বে অফডক থেকে শুধু ৩৮ ধরনের পণ্য খালাস করা গেলেও এখন সব ধরনের পণ্যের কনটেইনার খালাস করা যাবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পূর্বের ন্যায় গতি আসবে।
তবে অফডকেও যাতে অচলাবস্থা সৃষ্টি না হয় সেজন্য বেসরকারি অফডকগুলোতে জমে থাকা রপ্তানি কনটেইনারগুলো দ্রুত জাহাজীকরণের মাধ্যমে অফডকগুলোকে রপ্তানি কনটেইনার ফ্রি করার কথা জানিয়েছেন আইসিডি মালিকদের সংগঠন বিকডা।
বিকডা সচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, বর্তমানে ১৯টি অফডকে জমে থাকা প্রায় ১৩ হাজার টিইইউস রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনারের কারণে অফডকগুলোতে যে কনটেইনারজট রয়েছে তা অতি দ্রুত জাহাজীকরণ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ অফডকের রপ্তানি কনটেইনার জাহাজীকরণ করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর হতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার অফডকের ইয়ার্ডে স্থানান্তর করতে পারবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরের কনটেইনারজট নিরসনে একটি ইতিবাচক সুফল পাওয়া যাবে।
চটগ্রাম বন্দর ও অফডকসমূহের কনটেইনার ধারণক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে অফডকে আনা কনটেইনার যদি সময়মতো খালাস না নেওয়া হয় তাহলে অফডকগুলোতেও বন্দরের ন্যায় কনটেইনারজট বাঁধে।