চট্টগ্রাম থেকে সারা দেশে নৌপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ভাসানচরের সামনে সাগর উপকূল অতিক্রম করতে হয় জাহাজগুলোকে। প্রায় ১১৪ কিলোমিটার লম্বা চট্টগ্রাম-চরগজারিয়া নৌপথের সাগর উপকূলের ১৫ মাইল বর্ষা মৌসুমে দিন দিন ‘ভয়ংকর’ হয়ে উঠছে। জুলাই মাসের প্রথম ১০ দিনে ১৫ মাইল নৌপথে ঘটেছে পাঁচটি দুর্ঘটনা। এর মধ্যে ১৬ কোটি টাকার পণ্য নিয়ে ডুবেছে তিনটি জাহাজ।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই নৌপথে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে এ পথ ব্যবহারকারী বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ ও আমদানিকারকের। কারণ, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বছরে আমদানি হওয়া প্রায় পাঁচ কোটি টন পণ্য ছোট জাহাজে করে এই নৌপথ ব্যবহার করে নেওয়া হয় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, যশোরসহ সারা দেশে। অর্থাৎ এই সরবরাহ ব্যবস্থা কোনো কারণে ব্যাহত হলে পুরো দেশের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্য অনুযায়ী, নৌপথটি ধরে চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ১০০-১২০টি লাইটার জাহাজ সারা দেশের নানা ঘাটে পণ্য নিয়ে যায়। একই পথ ধরে ফেরত আসে ১০০-১২০টি লাইটার জাহাজ। সবচেয়ে বেশি পরিবহন হয় সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, চুনাপাথর, জিপসাম ইত্যাদি। এছাড়া সব মেগা প্রকল্পের সরঞ্জাম, পাথর, কয়লা, সার, জ্বালানি তেল, ডাল, গম, চিনিসহ ভোগ্যপণ্যের বড় অংশও এ পথে পরিবহন হয়।

ব্যবহারকারীরা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে ভাসানচরের সামনে দিয়ে হাতিয়া চ্যানেল হয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে পণ্য পরিবহন হয়। ভাসানচরের দক্ষিণে নিচের দিকে নৌপথটির সাগর উপকূলের প্রায় ১৫ মাইল এলাকায় পানির গভীরতা চার মিটারের কম। কিন্তু লাইটার জাহাজগুলোর ড্রাফট থাকে চার থেকে সাড়ে চার মিটার। তাতে ভাটার সময় এ পথে জাহাজ চলাচল করতে পারে না। জোয়ারের সময় পানি বাড়লে নৌপথটি অতিক্রম করতে হয়। এই অংশে জাহাজ চলাচল করে পূর্ব-পশ্চিমমুখী হয়ে। আর জোয়ারের সময় ¯্রােত ও ঢেউ থাকে উত্তর-দক্ষিণমুখী। অর্থাৎ জাহাজ চলাচলের সময় বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে জাহাজের পেটে। তাই জাহাজের কাঠামো দুর্বল হলে বা মাস্টার অনভিজ্ঞ হলে তখন এই অংশে জাহাজ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাতেই ঘটে দুর্ঘটনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here