বিশ্ব জুড়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিসর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের চাহিদাও বাড়ছে। এ কারণে নতুন নতুন জাহাজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও দেখা দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১ হাজারের বেশি জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ আসতে পারে। জাহাজের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি মালিকপক্ষের জন্য অবশ্যই সুখবর। তবে তা একই সঙ্গে ঝুঁকিরও বটে। কৌশলগত হিসাব-নিকাশে ভুল হলে মুনাফার বদলে বড় অংকের লোকসান গুনতে হতে পারে তাদের।
বিষয়টি খোলাসা করা যাক। কার্বন নিঃসরণ কমানো বিষয়টি এখন শিপিং খাতে অন্যতম চর্চিত বিষয়। বিভিন্ন মহল থেকে নিঃসরণ কমানোর ব্যাপারে অব্যাহত চাপ আসছে। এ অবস্থায় নতুন জাহাজের কার্যাদেশ দেওয়ার সময় জাহাজমালিকদের অবশ্যই জ্বালানি বাছাই ও নকশা প্রণয়নের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। কারণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ভবিষ্যতে তাদের পস্তাতে হতে পারে। সম্প্রতি মেরিটাইম পরামর্শক ও ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটি ডিএনভি প্রকাশিত ‘মেরিটাইম ফোরকাস্ট টু ২০৫০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।
ডিএনভি বলেছে, কার্বন নিঃসরণ কমানো এখন আর কেবল ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নয়। বরং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় আইনপ্রণেতারাও বিষয়টির ওপর জোর দিচ্ছেন। ব্যাংকার ও বিনিয়োগকারীরাও নিঃসরণ কমানোকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তারা সবাই শিপিং খাতে দ্রুত জ্বালানি রূপান্তরের দাবি জানাচ্ছেন। এর সঙ্গে পরিবেশবাদীদের তৎপরতা তো রয়েছেই। এসব চাপের কারণে আগামী বছরগুলোয় পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনগত দিকনির্দেশনা আসতে পারে। এখনই সেই সময়কার জন্য প্রস্তুতি না নিলে জাহাজমালিকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।