ওজন নির্ধারণ করেই পণ্য রপ্তানি করতে হবে

রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে বোঝাই করার আগেই ওজন নির্ধারণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। মূলত কনটেইনারবাহী জাহাজের ভারসাম্য রক্ষা ও অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়াতে এই নিয়ম আন্তর্জাতিকভাবে আগে থেকেই প্রচলিত আছে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় এখন এ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এ নিয়ম যথাযথভাবে পালন করতে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে ৩ অক্টোবর চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

নিয়ম অনুযায়ী, একজন রপ্তানিকারককে পণ্য জাহাজে বোঝাই করার আগে তার পণ্যবোঝাই কনটেইনারের ওজন নির্ধারণ করে নিতে হয়। দুই উপায়ে তারা এই কাজটি করে থাকে। প্রথমটি হলো সব পণ্য কনটেইনারে বোঝাই করে পণ্যসহ পুরো কনটেইনারের ওজন করে নেওয়া।

দ্বিতীয়টি আলাদাভাবে কনটেইনারের ওজন, পণ্যের ওজন ও প্যাকিং ম্যাটেরিয়ালের ওজন করে একত্রে সবগুলো যোগ করা। তৃতীয় পক্ষীয় কোনো ওজন নির্ধারণকারী সংস্থাকে দিয়ে এ কাজ করে নিতে হয়। ওজন নির্ধারণের পর ভেরিফাইড গ্রস মাস (ভিজিএম) কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। সেটি তারা ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার ও শিপিং এজেন্টদের প্রদান করবেন।

শিপিং এজেন্ট ওই ভিজিএম রিপোর্ট দাখিল করে জাহাজের ক্যাপ্টেন ও কনটেইনার জাহাজীকরণে নিয়োজিত টার্মিনাল অপারেটরকে। রিপোর্ট দেখেই জাহাজে কনটেইনার বোঝাই ও ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। এসব নিয়ম চালু থাকার পরও সম্প্রতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ভিজিএম দাখিল করছে না অনেক রপ্তানিকারক।

২০১৪ সালের নভেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)-এর ‘দ্য কনভেনশন ফর দ্য সেফটি অব লাইফ এট সি’ (সোলাস) আন্তর্জাতিকভাবে কনটেইনার জাহাজীকরণে ভিজিএম সিস্টেম আলোচনায় আনে। এটি বিশ^ব্যাপী ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়। বাংলাদেশ সোলাস কনভেশনের একটি স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ওই নিয়ম মানতে বাধ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here