চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ভারসাম্য বাড়ছে

চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি বিশেষ মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চীনা পণ্য আমদানিতে বাড়তি শুল্কারোপের মতো কঠোর অবস্থানেও গেছে তারা, যার ফলে হয়েছে ‘ফেজ ওয়ান এগ্রিমেন্ট’। এর কিছুটা সুফল পেতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭২০ কোটি ডলার। ২০২০ সালের একই সময়ে তা ছিল ১৬ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। বছরওয়ারি হিসাবে ঘাটতি তো বেড়েছে। তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সুফল পেল কীভাবে? বিষয়টা হলো, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। বিশে^র শীর্ষ দুই অর্থনীতিও এই ধাক্কা থেকে বাঁচতে পারেনি। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি যে কম দেখা যাচ্ছে, তা স্বাভাবিক পরিস্থিতির উপাত্ত নয়। তবে ২০১৯ সালের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে। আর এই উত্তরণে ভূমিকা রেখে চীনের বাজারে মার্কিন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি।

রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ বেশি হলে সেটি একটি দেশের জন্য বাণিজ্য ঘাটতি হয়ে যায়। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির তুলনায় আমদানি এখনো বেশি। তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, এই পার্থক্য কমতে শুরু করেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে চীনের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি হয়েছে ৭২৪ কোটি ডলার, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। আর ২০১৭ সালের তুলনায় চলতি বছরের সাত মাসে রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৭ সালের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, কারণ সেটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য শুল্কারোপ-পূর্ব শেষ বছর।

২০১৯ সালের তুলনায় এ বছরের জানুয়ারি-জুলাই মেয়াদে চীন থেকে আমদানি ৪ শতাংশ বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে ২০১৭ সালের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কম। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বাড়তি শুল্কারোপের আগের সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ভারসাম্য কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে।

শুধু যে ভারসাম্য ফিরে আসছে, তা নয়। বরং চীনের ওপর থেকে আমদানি নির্ভরতাও কমছে যুক্তরাষ্ট্রের। ২০১৭ সালের প্রথম সাত মাসে যেখানে দেশটির মোট আমদানির ২০ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল চীন থেকে, ২০২১ সালের একই সময়ে এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here