বিশ্ববাণিজ্যের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বড় হচ্ছে সমুদ্রগামী জাহাজের আকার। এসব দৈত্যাকার জলযানের জন্য খোলা সমুদ্রে চলাচল করাটা সহজ হলেও সংকীর্ণ পথ যেমন কোনো চ্যানেল বা সরু ক্যানেলে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। আবার আধুনিক যুগে সমুদ্রবন্দরগুলোয় জাহাজের চাপ এতটাই বেড়েছে যে, বার্থিংয়ের জন্য জাহাজগুলোর আকারের বাইরে জায়গা পাওয়া যায় খুব কমই। তাই জাহাজের নিজস্ব ব্যবস্থায় এই সংকীর্ণ জায়গায় বার্থিং করাটা একটা কঠিন কাজ।
এই জটিল ও কঠিন কাজগুলো সহজ করতেই মেরিটাইম খাতে টাগবোটের আবির্ভাব। টাগবোট হলো এমন এক ধরনের মেরিন ভেসেল, যেগুলো অন্য ভেসেলকে টেনে অথবা ঠেলে সেগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। সরু ক্যানেল বা ব্যস্ত হারবারে জাহাজের চলাচলে সহায়তার পাশাপাশি টাগবোট এমন কিছু ভেসেলকে এক স্থান থেকে অন্যত্র নিয়ে যায়, যেগুলো নিজেরা চলাচল করতে পারে না (যেমন বার্জ, লগ রাফট, অয়েল প্লাটফর্ম অথবা ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া জাহাজ)।
টাগবোটের আকার কিন্তু খুব একটা বড় না। তাহলে এত বড় জাহাজকে টেনে নিয়ে যায় কেমন করে? আসলে টাগবোটের এই শক্তির উৎস এর অনন্য ডিজাইন, শক্তিশালী ইঞ্জিন ও বিশেষ প্রপালশন সিস্টেম। টাগবোটের শক্তি এতটাই বেশি যে, নিজেদের আকারের হাজার গুণ বড় জাহাজকেও টেনে নিয়ে যেতে সক্ষম।
বিশ্ব প্রথম টাগবোট তৈরি হয় ১৮০১ সালে। শার্লট ডুন্ডাস নামের বোটটি তৈরি করেছিলেন স্কটিশ প্রকৌশলী উইলিয়াম সিমিংটোন। প্রথম দিকে টাগবোটগুলো বাষ্পীয় ইঞ্জিন দিয়ে চলত এবং সেগুলোর প্রপালশন সিস্টেম হিসেবে ছিল প্যাডেল হুইল। আধুনিক যুগে চালু হয় ডিজেল ইঞ্জিন। আর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে কিছু টাগবোটে।
সাধারণত টাগবোটের সক্ষমতা নির্ধারিত হয় কাজের ক্ষেত্রের ওপর নির্ভর করে। কিছু টাগবোট রয়েছে সমুদ্রগামী। কিছু আবার কাজ করে নদী অথবা হারবারে। আবার কিছু আইসব্রেকার অথবা স্যালভেজ টাগ হিসেবেও কাজ করে থাকে। কিছু টাগবোটে রয়েছে ডিলিউজ গান, যেগুলো অগ্নিনির্বাপণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।