মাতারবাড়ীর সাফল্য বাংলাদেশের গুরুত্বকে সামনে আনবে

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করলে শুধু বাংলাদেশই নয়, এ অঞ্চলের উন্নয়নে যোগ হবে নতুন মাত্রা। ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গভীর এই সমুদ্রবন্দরের সাফল্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসবে। ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতো এসব কথা বলেন। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সূচনা বক্তব্যে নাওকি ইতো বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, অবাধ ও মুক্ত ভারত প্রশান্ত মহাসাগর প্রতিষ্ঠা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এই চার বিষয়ে জোর দিচ্ছে জাপান।’

ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সামনে রেখে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর ঘিরে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে (আইপিএস বা ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল) বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার কথা বলছে জাপান। এ বিষয়ে নাওকি ইতো বলেন, ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর জাপানের বিগ বি ইনিশিয়েটিভের অংশ এবং বিগ বি-তে অবাধ ও মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ধারণার কথা বলা হয়েছে। নীতিগত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে আমাদের বিনিয়োগ করাটা জরুরি। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ফলে মাতারবাড়ীর সাফল্য এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরবে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ধারণার বাস্তবায়নে জাপানের অংশীদার হতে পারে বাংলাদেশ। এর মূল আদর্শগুলো বাংলাদেশও অনুসরণ করে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি চায়। বাংলাদেশ চায় না, এমন কোনো সহযোগিতার প্রস্তাব আমরা চাপিয়ে দেব না।’ বাংলাদেশের বৃহদায়তন অবকাঠামো প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের চেহারা বদলে যাবে। তখন এর সুফল নিতে পারে বাংলাদেশ। এই শতকে এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির হার বেশ ভালো। জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। গত বছরের তুলনায় এবারের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দুই দেশের বাণিজ্য ১০ শতাংশ বেড়েছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here