মৌসুমি ফল ছাড়া সারা বছর চাহিদা মেটাতে প্রচুর পরিমাণে ফল আমদানি করা হলেও এবার বাংলাদেশ থেকেই কাঁঠাল, আম ও আনারসের মতো মৌসুমি ফল রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। সমুদ্রপথে স্বল্প পরিমাণে দেশি ফল বিদেশে রপ্তানি শুরু হলেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ হতে পারে বিশে^র অন্যতম ফল রপ্তানিকারক দেশ। ৫ অক্টোবর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয় দেশে উৎপাদিত কাঁঠাল, আম ও আনারসের চালান। আগে কাঁচা আম রপ্তানি হলেও এবার পাকা আম কেটে ছোট আকারে টুকরো করে হিমায়িত অবস্থায় পাঠানো হয়েছে। একইভাবে পাকা কাঁঠাল ও আনারস কেটে টুকরো করে প্যাকেটজাত করে রপ্তানি করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর ইছানগরের প্রতিষ্ঠান মাসুদ অ্যাগ্রো প্রসেসিং ফুড প্রডাক্টস সাড়ে ১৮ টন সবজির সাথে প্রাথমিক অবস্থায় প্রসেস করা ৫২৮ কেজি দেশীয় ফল রপ্তানি করেছে। যুক্তরাজ্যের এমএফএস সি ফুড লিমিটেড বাংলাদেশ থেকে এই ফল আমদানি করছে। ২২ সেপ্টেম্বর ইস্টার্র্ন লজিস্টিকস ডিপো থেকে একটি হিমায়িত কনটেইনারে ওই সাড়ে ১৮ টন সবজির সাথে পাকা প্রসেস করা ফল চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজীকরণের জন্য পাঠানো হয়। ৫ অক্টোবর ওয়ান নেটওয়ার্ক এক্সপ্রেসের একটি জাহাজে করে ওই চালান ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে পাঠানো হয়। মাসুদ অ্যাগ্রো প্রসেসিং ফুড প্রডাক্টসের কর্ণধার আশরাফ হোসাইন মাসুদ বলেন, ‘আমাদের দেশে বিভিন্ন ফলের মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ফল উৎপাদন হয়। ভরা মৌসুমে ওইসব ফলের মূল্য তলানিতে গিয়ে ঠেকে। তখন প্রায় সময় এসব ফল নষ্ট হতে দেখা যায়। কিন্তু এসব ফল মৌসুমের সময় সংগ্রহ করে হিমায়িত করে রাখা এবং বিদেশে রপ্তানি করা গেলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। আমরা চাই বাংলাদেশের পাকা ফল বিদেশে সুপরিচিত হোক এবং নিয়মিত চাহিদা তৈরি হোক।’