২০৩০ সাল নাগাদ বিজুড়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। আর এমনটি হলে হাইড্রোকার্বন জ্বালানিগুলোর মধ্যে এলএনজির চাহিদাতেই সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে। সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে মরগান স্ট্যানলি রিসার্চ।
মার্কিন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ এলএনজির চাহিদা যে পর্যায়ে উপনীত হবে, তা পূরণ করতে বছরে অন্তত ৭ কোটি ৩০ লাখ টন সরবরাহ সক্ষমতার নতুন প্রকল্প হাতে নিতে হবে। আর এর জন্য অতিরিক্ত সাড়ে ৬ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
এলএনজি খাতে এরই মধ্যে বড় অংকের বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার কোটি ডলারের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
উষ্ণায়নের হাত থেকে বৈশি^ক জলবায়ুকে রক্ষার জন্য দেশে দেশে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে সরে আসছে দেশগুলো। এলএনজির চাহিদা বৃদ্ধিতে এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে। মরগান স্ট্যানলি বলছে, সামনের বছরগুলোয় এলএনজির চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে এশিয়ায়, যেখানে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার তুলনামূলক অনেক বেশি। চাহিদার এই প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দেবে চীন, ভারত, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ।
মরগান স্ট্যানলির মতে, সাম্প্রতিক ট্রেন্ড বজায় রেখে আগামী বছরগুলোতেও জ¦ালানি তেলের চাহিদা বাড়তির দিকে থাকবে। তবে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে হাইড্রোকার্বন জ¦ালানিগুলোর মধ্যে এলএনজির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বাড়বে। এ সময় কয়লার চাহিদা আর বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলে প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে।