চলতি বছরের জানুয়ারি-অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে নর্দার্ন সি রুট দিয়ে মোট ২ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এ সময়ে রুটটিতে ট্রানজিট পণ্য পরিবহন হয়েছে ২১ লাখ ২৫ হাজার টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি।
আলোচ্য সময়ে মোট ১ হাজার ১৫৫টি জাহাজ নর্দার্ন সি রুট দিয়ে চলাচলের অনুমোদন পেয়েছে, যা বছরওয়ারি ১৮ শতাংশ বেশি।
গত পাঁচ বছরে নর্দার্ন সি রুটে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বেড়েছে পাঁচগুণ। ২০১৯ সালে এই রুটে ৩৭টি যাত্রা সম্পন্ন করা হলেও ২০২০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪। সে বছর ৩ কোটি ৩০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে এই বাণিজ্য পথ দিয়ে।
২০১৯ সালে ৯৭৭টি জাহাজ আইএমওর আর্কটিক পোলার কোড এরিয়ায় প্রবেশ করেছিল। কানাডায় আকরিক লোহা উত্তোলন বেড়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলে বাল্ক ক্যারিয়ারের চলাচল বেড়েছে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে। ধারণা করা হচ্ছে, নর্দার্ন সি রুট দিয়ে পণ্য পরিবহন ২০৩০ সাল নাগাদ বেড়ে বার্ষিক ১০ কোটি টনে দাঁড়াতে পারে।
এই যে ক্রমশ প্রবৃদ্ধি, তা সম্ভব হচ্ছে সি আইসের পরিমাণ প্রতি বছর কমে যাওয়ার কারণে। ইউএস ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডাটা সেন্টারের তথ্য বলছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে আর্কটিকে সি আইসের গড় বিস্তার ৬১ লাখ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে ৪৩ লাখ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে।
এছাড়া গত মার্চে কনটেইনার জাহাজ এভার গিভেন আটকে যাওয়ার কারণে সুয়েল খালে তৈরি জটও শিপিং কোম্পানিগুলোকে নর্দার্ন সি রুট ব্যবহারে উৎসাহিত করেছে। এ পথে এশিয়া থেকে ইউরোপে যেতে গেলে প্রথাগত রুটের চেয়ে ৪ হাজার নটিক্যাল মাইল পথ কম পাড়ি দিতে হয়।
এদিকে ২০২২ ও ২০২৩ সালে পুরো বছরজুড়েই নর্দার্ন সি রুটে জাহাজ চলাচল শুরু করার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া।
নর্দার্ন সি রুটে জাহাজ চলাচল তুলনামূলক কম থাকার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত উদ্বেগ। পরিবেশগত প্রভাবের কারণে অনেকে এই রুটকে পারতপক্ষে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।