দেশের সমুদ্র অর্থনীতি খাত বা ব্লু ইকোনমির সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের পাশাপাশি পরিকল্পিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশেষ মেরিন প্ল্যান প্রণয়নের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ সেন্টার অব এক্সিলেন্স (বিসিই) আয়োজিত ‘ব্লু ইকোনমি: রিয়েলাইজিং দ্য পটেনশিয়াল অব মেরিন ফিশিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এমন মন্তব্য করেন বক্তারা।
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেরিন ফিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সহসভাপতি ভাইস অ্যাডমিরাল (অব.) জহির উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) ও প্রকল্প পরিচালক (টেকসই উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য প্রকল্প), মৎস্য বিভাগ খ. মাহবুবুল হক, ডিপ সি ফিশার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম শাহ নেওয়াজ চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, অর্জিত সমুদ্রসীমায় মৎস্য, গ্যাস, তেল, খনিজসহ অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এ সম্পদ যথাযথভাবে আহরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা, তথ্য সংগ্রহ এবং বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।
সিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ব্লু ইকোনমিতে বাংলাদেশের বৃহৎ সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করা, সরকারি ও বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টার ভিত্তিতে বহু কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামুদ্রিক মাছ আহরণ খাতে পরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগ ও নীতি সহায়তা প্রদান, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাছ রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
ভাইস অ্যাডমিরাল (অব.) জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের লক্ষ্যে সারা বছর গবেষণা কার্যক্রম চলমান রাখা আবশ্যক। সরকারি উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হলে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
এডিজি ও প্রকল্প পরিচালক খ. মাহবুবুল হক বলেন, সমুদ্র অর্থনীতিবিষয়ক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য পতেঙ্গায় একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। সমুদ্র থেকে আহরণকৃত মাছের ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়, যা সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ডিপ সি ফিশার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনাম চৌধুরী বলেন, একটি জাহাজের লাইফ টাইম শেষ হয়ে গেলে তা ‘রিবিল্ড’ করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে। তিনি এ সেক্টরের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিত্বের অংশগ্রহণে একটি ফোরাম গঠন করে নিয়মিত তথ্য ও মতবিনিময়ের প্রস্তাব করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম শাহ নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, জিডিপিতে সামুদ্রিক মৎস্য খাতের অবদান ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর সুফল পেতে সরকারিভাবে বিভিন্ন গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং একটি বিশেষ মেরিন প্ল্যান প্রণয়ন প্রয়োজন।