ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মেরিন এনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন কমিটির (এমইপিসি) ৭৭তম বৈঠকে জলবায়ু ইস্যুতে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে আর্কটিক অঞ্চলে ব্ল্যাক কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে একটি ঐচ্ছিক ও অ-বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ অনুমোদিত হয়েছে এ বৈঠকে।
কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ১১টি দেশ আর্কটিক অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোয় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ঐচ্ছ্বিক ব্যবহারের আহ্বান জানায়। এমইপিসির বৈঠকে এই প্রস্তাব ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন পেয়েছে। তবে রাশিয়া, চীন, ভারত, জাপান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও অ্যাঙ্গোলা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে।
আর্কটিক অঞ্চলে ব্ল্যাক কার্বন নিঃসরণ কমানোর দাবি দিনদিন জোরালো হচ্ছে। সমুদ্র পরিবহনের ফলে জলবায়ুর ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তার প্রায় ২০ শতাংশের জন্য দায়ী ব্ল্যাক কার্বন। স্বল্পজীবী এই দূষণকারী পদার্থ বরফ ও হিমের ওপর পড়ার পর এটি অতিরিক্ত মাত্রায় সূর্যের তাপ শোষণ করে এবং বরফ গলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে ব্ল্যাক কার্বন নিঃসরণের হার। ২০১৫ থেকে ২০১৯- এই সময়ের মধ্যে সেখানে ব্ল্যাক কার্বন নিঃসরণের মাত্রা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
এমইপিসির সর্বশেষ বৈঠকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে আলোচনা আরও দুই বছর চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। বৈঠকে টনপ্রতি ২ ডলার বাংকার ফি আরোপের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়নি। এছাড়া ২০৫০ সাল নাগাদ আইএমওর ডিকার্বনাইজেশন লক্ষ্যমাত্রা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাবনাও যথেষ্ট সমর্থন পায়নি।