করোনার নতুন ধরন অমিক্রনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। এরই মধ্যে কমেছে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, অমিক্রন সংক্রমণ আরো দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।
সম্প্রতি সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) করা ‘করোনার নতুন ধাক্কা : ব্যবসার আস্থা কোন পথে?’ শীর্ষক জরিপে ব্যবসায়ীদের এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।
জরিপে বলা হয়, অমিক্রনের প্রভাবে ৭১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি বা বিক্রি কমেছে। অমিক্রনের কারণে রপ্তানি কমার ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছে ৮৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বলছে, অমিক্রনের কারণে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থাসহ নানাবিধ কারণে ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়েছে। ৯১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বলেছে, এতে করে পুঁজি ও শ্রমের খরচ বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়েছে। ভবিষ্যতে ব্যাবসায়িক ক্ষেত্রে অমিক্রনের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এ জন্য সরকারের পুনঃপ্রণোদনা চান তাঁরা।
জরিপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। প্রতিষ্ঠানটি মূলত এই জরিপ করেছে চলতি বছরের ৩ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। সারা দেশের আটটি বিভাগের ৩৮টি জেলার ৫০২টি প্রতিষ্ঠান এই জরিপে অংশ নেয়। এর মধ্যে উৎপাদনমুখী কারখানা ২৫২টি ও সেবামূলক (সার্ভিস সেক্টর) প্রতিষ্ঠান ২৫০টি।
জরিপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় সেলিম রায়হান বলেন, ‘আমরা জরিপে দেখলাম, ব্যবসায়ী যে ধরনের ব্যাবসায়িক পুনরুদ্ধারের কথা ভেবেছিলেন, বিষয়টি সেভাবে এগোচ্ছে না। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার হচ্ছে, তাদের সবই বড় প্রতিষ্ঠান। তাদের পুনরুদ্ধারের পেছনে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ ভালোভাবেই কাজ করেছে। তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধারের গতি খুবই মন্থর। ’ এ সময় তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দেওয়া উচিত।
সানেমের জরিপে বলা হয়, ৬৯.২৩ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী বলছেন, তাঁরা সরকারের পুনঃপ্রণোদনা চায়। ৯৭ শতাংশ ব্যবসায়ী বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধিতে সব ধরনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ৭০ শতাংশ বলছেন, তাঁরা সর্বশেষ তিন মাসে ঋণ করে ব্যবসা চালিয়েছেন। এই ঋণের বেশির ভাগই করেছেন তাঁদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে। দুর্নীতি কারণে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ঋণ পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।
সানেম বলছে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে তথ্য-উপাত্ত নিতে গিয়ে তারা দেখেছে, এরই মধ্যে এর প্রভাব ব্যবসায়ীদের ওপর পড়েছে। ৯৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে যানবাহনের খরচ বেড়েছে। জরিপে ৭৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বলেছে, তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে।