জাহাজ বন্দরে অবস্থানকালে পরিবেশ দূষণ কমানোর অঙ্গীকার ইইউর

২০২৮ সাল নাগাদ কনটেইনার ও ক্রুজ শিপের জন্য শোর-সাইড বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় ইউরোপীয় বন্দরগুলো

সুনীল অর্থনীতির মূল নীতি হলো প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষতি না করে জলজ সম্পদের সর্বোচ্চ সুবিধা আহরণ করা। ফ্রান্সে সদ্য সমাপ্ত তিন দিনব্যাপী ওয়ান ওশান সামিটেও বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি সামিটের সমাপনী দিনে বিভিন্ন বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অংশীজন একটি যৌথ অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছে, যেখানে বন্দরে যাত্রাবিরতির সময় কনটেইনার জাহাজ ও প্রমোদতরী কর্তৃক পরিবেশদূষণ কমানোর কথা বলা হয়েছে।

এবারের সামিটে বন্দর কর্তৃপক্ষগুলোর পক্ষ থেকে পরিবেশবান্ধব সমুদ্র পরিবহন খাত গড়ে তোলার জন্য বেশ কিছু লক্ষ্যমাত্রার ঘোষণা এসেছে, যার অংশ হিসেবে ২০২৮ সাল নাগাদ কনটেইনার ও ক্রুজ শিপের জন্য শোর-সাইড বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। সামিটে বন্দর অংশীজনদের সবাই সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

সমুদ্রযাত্রায় জাহাজগুলোকে পোর্ট কলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বন্দরে বিরতি দিতে হয়। বন্দরে অবস্থানকালে সেখানকার পরিবেশের ওপর জাহাজগুলো কিছু নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই প্রভাব কীভাবে সীমিত রাখা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনা চলছে অনেকদিন ধরে। তবে এ বিষয়ে পরিকল্পনা সাজানোর ক্ষেত্রে এতদিন ক্রুজ শিপ ও ফেরিগুলোই গুরুত্ব পেয়েছে বেশি। কিন্তু এবারের সামিটে কনটেইনার জাহাজের পরিবেশগত প্রভাব সীমিত রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ বিশ্বে পোর্ট ট্রাফিকের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে কনটেইনার জাহাজ।

বন্দর কর্তৃপক্ষগুলোর এই উদ্যোগে সহায়তার ঘোষণা দিয়ে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) জানিয়েছে, কার্বনমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় সবসময় পাশে থাকবে তারা।

ওয়ান ওশান সামিটে ইইউ সদস্য দেশগুলো আরও কয়েকটি বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এগুলো মধ্যে জাতিসংঘে চলমান ট্রিটি অব দ্য হাই সিজ আলোচনায় ইইউর হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একটি কোয়ালিশন গঠন অন্যতম। চলতি বছরের জুনে ইউএন ওশান কনফারেন্সে এই ট্রিটি চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here