
প্রাক-বাজেট আলোচনায় আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে। রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফা), ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা), শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে বাজেট বিষয়ক প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আমদানি-রপ্তানি পণ্য গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাফার সভাপতি কবির আহমেদ বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানির বড় অংশই সম্পাদন হয় ফ্রেইট ফরোয়ার্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে। তাই এ খাতটিকে বিশেষভাবে দেখা জরুরি। নীতিমালাগত বিভিন্ন ত্রুটি ও অস্পষ্টতার কারণে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। আমরা সরকারকে কর দিতে শতভাগ প্রস্তুত। তবে এক্ষেত্রে বেশকিছু নীতিমালার যৌক্তিকীকরণ ও সংশোধনের প্রস্তাব দেন তিনি।
আলোচনায় আগামী বাজেটে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর করহার ৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নূরুল কাইয়ুম খান বলেন, কম লাভের ব্যবসা হওয়ায় এ খাতের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে লোকসানে আছেন। ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বাজেটে আইসিডি কোম্পানির করহার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করছি। একই সঙ্গে উৎসে কর ৮ ও ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকারস অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবু তাহের জাহাজ ভাঙা শিল্পের স্ক্র্যাপ ভেসেলের টনপ্রতি আমদানি শুল্ক দেড় হাজার থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, স্ক্র্যাপ জাহাজের আন্তর্জাতিক বাজারদর মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। প্রতি টন স্ক্র্যাপ ৩৫০ থেকে বেড়ে ৬০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিময় হার বেড়ে ৮৫ টাকা থেকে ৮৮ টাকা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে লোহার বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে স্ক্র্যাপ জাহাজের আমদানি শুল্ক ১ হাজার টাকা কমানোর দাবি জানান তিনি।
শিপইয়ার্ডে শ্রমিকের মৃত্যু বিষয়ে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক-মৃত্যুর হার অনেক কমে এসেছে। আগামীতে আশা করছি এটা বন্ধ হবে। আমরা এখন গ্রিন শিপইয়ার্ড রূপান্তরের দিকে যাচ্ছি। এরই মধ্যে তিনটি শিপইয়ার্ড গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরিত করেছি। আরও ১০টির কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে তালিকাভুক্ত সব শিপইয়ার্ড গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
আলোচনায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজল বলেন, এনবিআর সিঅ্যান্ডএফের কোনো একটি বিষয়ের ওপরই ভিন্ন এসআরও (প্রজ্ঞাপন) জারি করে। এতে নতুন নিয়মকানুন যুক্ত হয়ে কাজটি কঠিন হয়ে যায়। শুল্ক পরিশোধে সময়ক্ষেপণ হয়। একই বিষয়ে বার বার এসআরও জারি না করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ এ খাতের করপোরেট কর ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর সদস্য মো. মাসুদ সাদিক জানান, এসব প্রস্তাব বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আলোচনায় এনবিআর সদস্য (ভ্যাট নীতি) জাকিয়া সুলতানা ও সদস্য (আয়কর নীতি) সামসুদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং খাতগুলোর ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।