নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে ব্রিটিশ সরকারের নিজস্ব পদক্ষেপ এখনই চায় না শিপিং চেম্বার

বাজার সংশ্লিষ্টদের দাবির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কার্বন চার্জ আরোপের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)। এ অবস্থায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে নিজস্ব পদক্ষেপ গ্রহণের চিন্তাভাবনা করছে ব্রিটিশ সরকার। কিন্তু ইউকে চেম্বার অব শিপিং সরকারের প্রতি আর্জি জানিয়েছে, সরকার যেন এখনই নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ না নেয়। বরং এ বিষয়ে আইএমওর সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি।

চেম্বার অব শিপিং বলেছে, গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আইএমওর মানদণ্ড চালু রয়েছে। চেম্বার সবসময় আইএমওর এই মানদণ্ড মেনে চলে। এ কারণে এখনই কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আর্জি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বর্তমানে বৈশ্বিক শিপিং খাতে যেসব বিষয় সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে, গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানো তার অন্যতম। নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি রূপান্তরের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এইচএফও ও ভিএলএসএফও জ্বালানি থেকে সরে আসাটা জাহাজ মালিকদের জন্য খুব একটা সহজ হবে না। সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি তো রয়েছেই, এর সঙ্গে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির সরবরাহ পর্যাপ্ততার চ্যালেঞ্জও কম নয়।

জ্বালানি রূপান্তরের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেক বেশি গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। এই কাজে অর্থায়ন সহায়তার লক্ষ্যে কার্বন চার্জ আরোপের মাধ্যমে একটি তহবিল গঠনের দাবি ছিল খাতসংশ্লিষ্টদের। পরিবেশ আন্দোলনকর্মীদের দাবি রয়েছে টনপ্রতি ৪৫০ ডলার থেকে ৯০০ ডলারের চার্জ আরোপের। কিন্তু এত বড় অংকের তো দূরে থাক, টনপ্রতি ২ ডলারের (দশমিক ৩ শতাংশ) হারে চার্জ আরোপের বিষয়েই একমত হতে পারেনি আইএমওর মেরিন এনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন কমিটি (এমএপিসি)।

উল্লেখ্য, চীন, রাশিয়া, সৌদি আরবসহ তেল উত্তোলক অন্যান্য দেশের চাপের কারণে এখন পর্যন্ত সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারেনি পশ্চিমা দেশগুলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here