পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি বিজিএমইএ সভাপতির

‘ইন্ডাষ্ট্রিয়াল রেইনওয়াটার হার্ভেষ্টিং এ সাসটেইনেবল এপ্রোচ টু ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের প্রধান অতিথিসহ অংশগ্রহণকারীরা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাত উৎপাদনে দূষণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি- বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাকখাত পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনন্য অগ্রগতি সাধন করেছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার আবাসস্থল বাংলাদেশ এবং পোশাক শিল্প পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নে তার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’

মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ওয়েষ্টিন হোটেলে বিজিএমইএ এবং ওয়াটারএইডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইন্ডাষ্ট্রিয়াল রেইনওয়াটার হার্ভেষ্টিং এ সাসটেইনেবল এপ্রোচ টু ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিশেষ করে শিল্পে পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও ব্যবহার সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা।

আলোচনায় টেকসই সাপ্লাই চেইন এবং পরিবেশগত প্রভাবগুলো মোকাবেলায় সম্ভাব্য সুযোগ, চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, পোশাক কারখানাগুলো কিভাবে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করছে তা নিয়ে মতবিনিময় হয়।

অনুষ্ঠানে ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান গেষ্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ওয়াটারএইডের পরিচালক, পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি পার্থ হেফাজ শেখ সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যাসোসিয়েশন- বায়লার সভাপতি আবরার হোসেন সায়েম।

গোলটেবিল বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমাদের ইউএসজিবিসি থেকে প্রত্যয়িত ১৫৭টি গ্রীন কারখানা রয়েছে এবং এগুলোর মধ্যে ৪৭টি প্লাটিনাম রেটেড, ৯৬টি গোল্ড রেটেড। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০০টি গ্রীন কারখানার মধ্যে ৪০টি কারখানাই বাংলাদেশে অবস্থিত। আরও ৫০০টি কারখানা প্রত্যয়িত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই গ্রীন কারখানাগুলো পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন যা প্রায় ৪০ পারসেন্ট কার্বন নিঃসরণ কমায় এবং এসব কারখানায় প্রচলিত ভবনগুলোর তুলনায় ৪০-৫০ পারসেন্ট কম পানির ব্যবহার হয়।’

ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি ক্রমশ হ্রাস পাওয়ার কারণে আসন্ন দিনগুলোতে যে পানি সংকটের মুখে আমরা পড়তে যাচ্ছি, তা সমাধানে আমাদের সবাইকে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করতে হবে। প্রশস্ত স্থানে উন্মুক্ত ছাদ একটি টেকসই সমাধান হতে পারে এবং ব্যবসায় বিশেষ করে শিল্পে ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটানোর উত্তম উৎস হতে পারে। সকল খাতগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে শিল্পে পানির চাহিদা পূরণ এবং জলসম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here