
বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় আগারগাঁও কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে) এবং বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, এমপি।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন এবং আমন্ত্রিত অন্যান্য সামরিক ও অসামরিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পক্ষ থেকে বিশেষ অতিথি কর্তৃক কোস্টগার্ডের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, নাবিক, অসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বীরত্বপূর্ণ এবং সাহসী কার্যক্রমের জন্য পদক বিতরণ করা হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূরপ্রসারি ভাবনার ফলেই নিজস্ব সমুদ্র এলাকা দাবি সংবলিত ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ প্রণীত হয়। পরে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ কোস্টগার্ড প্রতিষ্ঠার সোপান রচনা করেন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় মহান জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বিল’ উত্থাপন করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ বাহিনীর যাত্রা হয়। শুরুতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী থেকে দুটি জাহাজ ও দুটি বোট এবং প্রেষণে আগত ২২০ জন নৌসদস্য নিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তার পথচলা শুরু করে। পরে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় এ বাহিনীতে নতুন নতুন প্লাটফর্ম ও অবকাঠামো সংযোজিত হয়েছে। ফলে বাহিনীর অপারেশনাল কর্মকাণ্ডে ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়েছে এবং অর্জিত হয়েছে নানা সাফল্য। কোস্টগার্ডের নিরলস প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দর ঝুঁকিপূর্ণ বন্দরের তালিকা থেকে মুক্ত হয়ে একটি নিরাপদ বন্দরে পরিণত হয়েছে।
করোনাকালীন ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী নিয়ে অসহায়, দুস্থ, কর্মহীন ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কোস্টগার্ড। আসন্ন দিনগুলোয় দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণে সততা, পেশাদারিত্ব এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে বুকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যেতে বদ্ধপরিকর কোস্টগার্ড। সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে জাতির প্রত্যাশা পূরণে নিরলস কাজ করে যাবে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।