করোনার বিপর্যয় প্রায় কাটিয়ে উঠেছে বিশ্ব অর্থনীতি। গত বছরের শুরু থেকে ঘুরে দাঁড়ায় পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য। রেকর্ড প্রবৃদ্ধির দেখা পায় উন্নত দেশগুলো। এ অবস্থায় ২০২১ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্য ২৮ লাখ কোটি ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে। সম্প্রতি নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলন (আঙ্কটাড)। যদিও বিভিন্ন কারণে চলতি বছর বৈশ্বিক বাণিজ্য কিছুটা ধীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রতিষ্ঠানটি।গ্লোবাল ট্রেড আপডেট শীর্ষক প্রতিবেদনে আঙ্কটাড জানিয়েছে, মহামারীতে বিধ্বস্ত হওয়ার পর গত বছর বৈশ্বিক বাণিজ্য ২৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করেছে। বাণিজ্যের এ পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। করোনাপূর্ব ২০১৯ সালের তুলনায়ও এ বাণিজ্য ১৩ শতাংশ এগিয়ে।
২০২১ সালে পণ্য ও পরিষেবা উভয় বিভাগেই বাণিজ্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকেই (অক্টোবর-ডিসেম্বর) পণ্য বাণিজ্য প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। পণ্য বাণিজ্যের এ পরিমাণ আগের যেকোনো প্রান্তিকের চেয়েই বেশি। এ সময়ে পরিষেবা বাণিজ্যও কভিডপূর্ব পর্যায়কে ছাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের এ ইতিবাচক প্রবণতা প্রাথমিকভাবে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল ও আর্থিক প্রণোদনার কারণে শক্তিশালী চাহিদা পুনরুদ্ধারের ফলাফল ছিল। তবে এ প্রবণতাগুলো আগামী মাসগুলোয় শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবণতা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে আঙ্কটাড। সংস্থাটির মতে, ২০২২ সালে বিশ্ব বাণিজ্যে বিভিন্ন কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে ধীরগতি, চলমান সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা, ঋণের টেকসইযোগ্যতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ, একটি সবুজ বিশ্ব অর্থনীতির দিকে অগ্রসর, বাণিজ্য চুক্তি ও বাণিজ্য আঞ্চলিকীকরণ।