ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় দেশ দুটির নাবিকদের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে সাপ্লাই চেইনে বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব শিপিং (আইসিএস) সম্প্রতি এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে।
বিমকো/ আইসিএস সিফেয়ারার ওয়ার্কফোর্স রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে মোট নাবিকের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ রাশিয়ার ও ৭৫ হাজার ইউক্রেনের নাগরিক। তাদের মধ্যে রুশ অফিসারের সংখ্যা ৭০ হাজার আর ইউক্রেনের অফিসারের সংখ্যা ৫০ হাজার। বিশ্বের মোট নাবিকের প্রায় ১৫ শতাংশ এই দুই দেশের নাগরিক।
সমুদ্র বাণিজ্যে ক্রু পরিবর্তন নিয়মিত একটি চর্চা। আর এর জন্য বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তে নাবিকদের মুক্তভাবে চলাচল করতে হয়। রাশিয়ার সামরিক অভিযানের জেরে ইউক্রেন ও পার্শ্ববর্তী কিছু অঞ্চলে একের পর এক বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে নাবিকদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আইসিএস আশঙ্কা করছে, সামনের দিনগুলোয় সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
কেবল নাবিকদের মুক্তভাবে চলাচলই নয়, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা চালু রাখাও জরুরি বলে মনে করছে আইসিএস। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থা বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে রুশ নাবিকদের বেতন পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়বে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
এমনিতেই করোনা মহামারির মধ্যে জাহাজ ত্যাগ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও শোর লিভে নিষেধাজ্ঞার কারণে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। নাবিকদের প্রসন্নতার সূচকেও এর প্রভাব দেখা গেছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কিছু বিষয়ে দ্রুত পরিবর্তন আনতে না পারলে নাবিকদের মানসিক অবসাদ দূর করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যতে নাবিক সংকট তৈরি হবে। এমন অবস্থায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের নাবিকরা মুক্তভাবে চলাচল করতে না পারলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে বলে সতর্ক করেছে আইসিএস।