চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌ-পথের উন্নয়নে বিদেশি আলাদা তিনটি প্রকৌশল কোম্পানির সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে একসাথে কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রকল্পের তিনটি ধাপে ব্যয় বরাদ্দ এবং ঠিকাদার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী।
চীন, ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলাদা তিনটি কোম্পানির সঙ্গে দেশি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে তিনটি ধাপে এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ৩১ কোটি ৪৯ লাখ ৮২ হাজার ৭৯২ টাকা।
বৈঠক শেষে অতিরিক্ত সচিব জানান, ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১’ এর আওতায় চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌ-পথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণে এই অর্থ ব্যয় হবে।
এর প্রথম সংশোধিত প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর ‘ডব্লিউ১এ’ এর প্রথম লটের কাজ পেয়েছে চীনের ‘চায়না হারবর ইঞ্জিনিয়ারিং’। এই লটে ৬০১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার ৪৪ টাকার ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একই রুটের দ্বিতীয় লটে থাকছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ‘গালফ কোবলা’ ও বাংলাদেশের ‘কর্ণফুলি’ নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ। এই লটের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৪ কোটি ২১ লাখ ৩৫ হাজার ১৬৪ টাকা।
এই রুটের তৃতীয় লটে ভারতের ‘ধরিত্রী ড্রেজিং অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ ও বাংলাদেশের ‘বঙ্গ ড্রেজার্স লিমিটেড’ এর নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তৃতীয় লটের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫৮৪ টাকা।
অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ অঞ্চলের নৌ করিডোরের সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রকল্প-১’ হাতে নেয় সরকার।
২০১৭ সালে কাজ শুরু হওয়া এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম করিডোরের আশুগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এবং বরিশালে মূল নদী এবং শাখা নদী খনন এবং রক্ষাণাবেক্ষণে এ অর্থ ব্যয় হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আর্থিক চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। পরের বছর মার্চে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ এবং অর্থ বিভাগের মধ্যে এ কাজের চুক্তি হয়।