২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যে, বিশেষ করে তৈরি পোশাকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ শুল্ক-কর আরোপিত হবে। বর্তমানে সেখানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় বাংলাদেশ।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেন্টার পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত মূল প্রবন্ধে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পর জাপানের বাজারে বাণিজ্য-সুবিধা অব্যাহত রাখতে তিনটি সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হলো জিএসপি প্লাস নিয়ে দর-কষাকষি করা, কোভিড প্রেক্ষাপটে আরও দু-তিন বছর বাণিজ্য-সুবিধা অব্যাহত রাখা ও মুক্ত বাণিজ্য (এফটিএ) চুক্তি করা। এ ছাড়া জাপানের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দেশের ভেতরে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষক সৈয়দ ইউসুফ সাদাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, গত ৫০ বছরে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হয়নি। জাপানের সঙ্গে সুসম্পর্কের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা করছে জাপান, তাই মাতারবাড়ীকে এখন জাপানবাড়ী বলা হয়।’
আরেকটি উদাহরণ দেন তিনি, ‘একবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে জাপানি সহায়তায় নির্মিত সেতু পরিদর্শনে যান, কিন্তু সেতুটি সরু হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাশে আরেকটি সেতু করার জন্য সহায়তার ঘোষণা দেন।’
জাপানের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। বলেন, এখানে অনেকেই এফটিএ করার তাগিদ দিয়েছেন। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কাজ চলছে। ২০২০ সালে যৌথ সমীক্ষা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাপানে দক্ষ জনশক্তি দরকার। তাই বাংলাদেশকে দক্ষ লোক তৈরিতে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, সে জন্য বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। জাপানে আতিথেয়তা, নার্সিং ও রেস্তোরাঁ খাতে প্রচুর জনবল দরকার হবে।