পোর্ট অব মোম্বাসায় একটি নতুন কনটেইনার টার্মিনালের দ্বিতীয় ফেজ দ্রুত উদ্বোধনের লক্ষ্যে কাজ করছে কেনিয়া সরকার। টার্মিনালটি পরিচালনার ভার বেসরকারি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টার্মিনালটির দ্বিতীয় ফেজ কমিশনিংয়ের মাধ্যমে বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে চায় সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই দ্বিতীয় ফেজের কমিশনিং করা হবে। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৮ কোটি ডলার। প্রকল্পটির বাস্তবায়নে কাজ করছে জাপানের টয়ো কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। বর্তমানে তারা প্রকল্পটির চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ করছে।
মোম্বাসা পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অধীনে নতুন টার্মিনালটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ঋণসহায়তা দিয়েছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকার সেরা টার্মিনাল হতে যাচ্ছে এটি। মোম্বাসা বন্দরের এই অঞ্চলের গেটওয়েতে পরিণত হওয়ার প্রয়াসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে টার্মিনালটি।
এদিকে একটি বেসরকারি অপারেটরের হাতে টার্মিনাল পরিচালনার ভার ছেড়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করছে, সেটি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে বেশ। মোম্বাসার দ্বিতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে তহবিল সহায়তা দিচ্ছে জাপান সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এটি বেসরকারি অপারেটরের হাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তারাই চাপ দিচ্ছে। সূত্রটি এমনও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, জাপান সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে যেন কোনো জাপানি কোম্পানিই এই দায়িত্ব পায়।
এই খবর সত্য হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনাও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেনিয়ার নতুন স্ট্যান্ডার্ড গেজ রেলওয়ে পরিচালনার দায়িত্ব একটি চীনা কোম্পানিকে দেওয়ার জন্য দেশটির সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেখা গেছে বেইজিংকে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই রেলওয়ে প্রকল্পে ঋণসহায়তা দিয়েছে চীন সরকার।
মোম্বাসার দ্বিতীয় টার্মিনাল বেসরকারি পরিচালনায় ছেড়ে দেওয়ার খবরে খুশি হতে পারেননি সেখানকার ডক শ্রমিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে স্থানীয় শ্রমিকরা কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হলে দ্বিতীয় টার্মিনালটির দ্বিতীয় ফেজ মোম্বাসা পোর্টের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউ বৃদ্ধি করবে। বর্তমানে বন্দরটির হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১৬ লাখ টিইইউ। এই টার্মিনালের নির্বিঘ্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে কেনিয়া সরকার ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যয়ে একটি মাল্টিপারপাস স্যালভেজ টাগবোট ও ২ কোটি ৯০ লাখ ডলারে তিনটি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ করেছে।