চীনে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাওয়া পণ্যের তালিকা প্রকাশ

চীনের বাজারে বাংলাদেশের যেসব পণ্য শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে সেগুলোর এইচএস কোড ও নামের পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি তালিকা প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রোববার (২০ মার্চ ) প্রকাশিত তালিকায় আট হাজার ৯৩০টি এইচএস কোডের বিপরীতে সংশ্নিষ্ট পণ্যের নাম রয়েছে। যদিও সবগুলোতে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাবে না বাংলাদেশ। এই তালিকার ৯৮ শতাংশ পণ্যে সুবিধা পাবেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ইংরেজিতে নাম ও এইচএস কোড প্রকাশ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সুবিধা নেওয়া সহজ হবে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চীন তাদের আমদানি তালিকায় থাকা পণ্যের ৯৮ শতাংশে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে। ২০২০ সালের ১৬ জুন চীনের স্টেট কাউন্সিলের ট্যারিফ কমিশন পণ্যগুলোর তালিকা চীনা ভাষায় প্রকাশ করেছিল। পরে চলতি বছর ইংরেজিতে আংশিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। এখন পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হলো। তাতে দেখা গেছে, চীন ৮ হাজার ৯৩০টি এইচএস কোডে বিভিন্ন পণ্য বিশ্ববাজার থেকে আমদানি করে থাকে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৫১ এইচএস কোডের বিপরীতে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পায়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। চীনের বাজারে রপ্তানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পেতে হলে রুলস অব অরিজিনের শর্ত অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে রপ্তানি মূল্যের ৪০ শতাংশ মূল্য সংযোজন অথবা পণ্যের চার ডিজিটের এইচএস কোড পরিবর্তন করতে হয়।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের সব পণ্য চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাবে। এক সময় বাংলাদেশ চীনের আমদানি পণ্যের ৬১ শতাংশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত। তাতে তৈরি পোশাকের (ওভেন ও নিট) সব পণ্য শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা পেত না। ওভেন গার্মেন্টে মোট ১৬৭টি ও নিট গার্মেন্টে ১৩২টি এইচএস কোড রয়েছে। আগের ৬১ শতাংশ সুবিধায় ওভেনের ১১৭টি এবং নিটের ৮৮টি এইচএস কোড শুল্ক্কমুক্ত সুবিধার আওতাভুক্ত ছিল। কিন্তু শুল্কমুক্ত সুবিধা বাড়িয়ে ৯৮ শতাংশ করায় এখন সব পণ্যই এ সুবিধা পাচ্ছে।

এ ছাড়া শতভাগ পাট ও পাটজাত পণ্য, মাছ, চামড়াজাত পণ্য, অপটিক্যাল ও সার্জিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট, হোম টেক্সটাইল পণ্যও চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। চামড়া, পাদুকা, তুলা ও তুলার তৈরি সুতার সিংহভাগ পণ্যও শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় বিশ্বের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর দেশের বাজারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই থেকে জানুয়ারি) বাংলাদেশ থেকে চীনে ৪২ কোটি ৬১ লাখ ৪৬ হাজার ডলারের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৮ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

যেসব পণ্যে শুল্ক দিয়ে চীনের বাজারে প্রবেশ করতে হবে সেগুলো বাংলাদেশ থেকে বিশেষ রপ্তানি হয় না। এসব পণ্যের মধ্যে বেশিরভাগই কৃষিজাত পণ্য। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধান, গম, ভুট্টা, চিনি, পাম অয়েল, চিনি, পশুখাদ্য, তামাক ও তামাকজাত পণ্য এবং খনিজ ও রাসায়নিক সার। এ ছাড়া ধান ও গমের খড় থেকে তৈরি বোর্ড, নিউজপ্রিন্ট, কাগজ ও কাগজ থেকে তৈরি বিভিন্ন পণ্য, টিস্যু পেপার, ট্রেসিং পেপার, সিগারেটের কাগজ, হাসপাতালের বিছানার চাদর ও এ জাতীয় অন্যান্য পণ্য, বিভিন্ন ধরনের উল, তুলার বর্জ্য রপ্তানিতে শুল্ক দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here