বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ছয়টি নির্দেশনায় দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। নির্দেশনায় বলা হয়, চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আগেই বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যাপ্ত গম ও ভুট্টা আমদানি করে মজুদ করা, রাশিয়া ও ইউক্রেন ছাড়া নতুন নতুন দেশে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার তৈরি করা, রাশিয়ার ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে দেশে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ চালিয়ে নিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, ওই অঞ্চলে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কৃষ্ণ সাগরের আশপাশের দেশগুলোর আকাশপথ ব্যবহার করা, গম ও ভুট্টা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশে উৎপাদন বাড়ানো এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অপপ্রচার বা গুজব ছড়িয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সেদিকে নজরদারি বাড়ানো। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র উল্লেখ করে এ তথ্য দিয়েছে দৈনিক কালের কণ্ঠ।

রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আমদানির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টন গম আমদানি করা হয়, যার দুই-তৃতীয়াংশই আসে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। যুদ্ধের কারণে দেশ দুটি থেকে গম ও ভুট্টা আমদানি এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বাজারে। জ্বালানি তেলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ও ইউক্রেন বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ভোজ্য তেলসহ রাসায়নিক পদার্থ, খনিজ সামগ্রী ও যন্ত্রাংশ রপ্তানি করে। ফলে যুদ্ধ শুরু হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর কৃষ্ণ সাগরে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ ঢুকছে না। রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশসহ অন্য আমদানিকারক দেশগুলোতে চাহিদার বিপরীতে কম জোগান এবং জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এরই মধ্যে দেশের বাজারে গম, ভুট্টা ও ভোজ্য তেলের মূল্য বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ প্রতিবছর রাশিয়া ও ইউক্রেনে সরাসরি এবং অন্য দেশের মাধ্যমে তৈরি পোশাক, পাট, হিমায়িত খাদ্য, চা, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক পণ্য, তামাক, মাছ, ওষুধ, শাকসবজি ইত্যাদি রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। অন্যদিকে এই দুই দেশ থেকে বাংলাদেশে গম, ভুট্টা, সরিষা, মটর ডাল, মসুর ডাল, সূর্যমুখী তেল, খনিজ সামগ্রী, রাসায়নিক পদার্থ, যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিকসহ নানা পণ্য আমদানি করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here