বিশ্ব অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ অনেকটাই ওলটপালট করে দিচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। করোনার প্রভাব মোকাবিলা করে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে অনেক দেশ, ঠিক তখনই দেখা দিয়েছে নতুন এই সংকট। যার প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন খাতে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নীতি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনছে বিভিন্ন দেশ।
এসব কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড)। গত সপ্তাহের শেষদিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল আঙ্কটাড।
করোনা অতিমারি বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসে ২০২০ সালে। ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয় ওই বছর। অবশ্য পরের বছর সেই ধকল কাটিয়ে প্রবৃদ্ধি হয় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
‘ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট আপডেট’ শীর্ষক আঙ্কটাডের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর অর্থনীতিতে ব্যাপক মন্দাবস্থার মধ্য দিয়ে যাবে রাশিয়া। পশ্চিম ইউরোপ, মধ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অনেক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দেখা দিতে পারে শ্নথগতি। চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মূল্যস্ম্ফীতির চাপের কারণে আবারও সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির পথে হাঁটতে পারে উন্নত অনেক দেশ। আগামী বাজেটের আকারও কমিয়ে দিতে পারে কোনো কোনো দেশ।
সংস্থাটির আশঙ্কা, বিশ্ব অর্থনীতিতে চাহিদা কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতি সমন্বয়ের ঘাটতি এবং করোনার প্রভাবে আগে থেকে বেড়ে যাওয়া ঋণের বোঝা আর্থিক খাতের জন্য নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে। এটি উন্নয়নশীল কিছু দেশকে দেউলিয়া ও মন্দার দিকে নিয়ে যেতে পারে। স্থবির করে দিতে পারে তাদের উন্নয়ন।
আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ জ্বালানি তেল ও প্রাথমিক পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। অনেক দেশে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায়ও ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে যুদ্ধ। এটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে পণ্য, বন্ড ও মুদ্রা বাজারে চরম অস্থিরতার পাশাপাশি মুদ্রার পাচার নিয়েও শঙ্কার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
স্বল্পমেয়াদি সরকারি ঋণ পরিশোধকেও বড় উদ্বেগের কারণ বলে মনে করছে আঙ্কটাড। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য ২০২২ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ৩১০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন পড়তে পারে। যা ২০২০ সালের মোট বৈদেশিক ঋণস্থিতির ৯ দশমিক ২ শতাংশ।
সংকট মোকাবিলায় বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সহজ শর্তে অর্থায়ন, ইউক্রেনকে ঋণ মওকুফ সুবিধা দেওয়া, উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশের জন্য আর্থিক চাপ কমিয়ে আনতে তারল্য সহায়তা দেওয়া ইত্যাদি।