জ্বালানি ও সময় সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে ভয়েজ অপ্টিমাইজেশন যে কতটা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, শিপিং লাইনগুলো তা অনুধাবন করতে শুরু করেছে। শিডিউল ও পোর্ট কলের সময় অনুযায়ী বন্দরে পৌঁছানো এবং সব কার্যক্রম শেষে সময়মতো বন্দর ত্যাগ করতে পারলে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ও সময়ের অপচয় দুটো থেকেই মুক্তি মেলে।
জাহাজের ‘জাস্ট ইন টাইম অ্যারাইভাল’-এর উপকারিতা যে কেবল এই দুটোই, তা কিন্তু নয়। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলে আরেকটি ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। আর তা হলো কার্বন নিঃসরণ কম হওয়া।
শিপিং খাতে নিঃসরণ কমানো নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে সর্বত্রই। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধে শিপিং খাতের ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে আইএমওসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। নিঃসরণ কমাতে উন্নত প্রযুক্তি ও বিকল্প পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এগুলো নিয়ে হচ্ছে বিস্তর গবেষণা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিঃসরণ মোকাবিলায় এরই মধ্যে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো চলতে থাকুক। তবে এগুলোর প্রভাব স্পষ্ট হওয়া সময়সাপেক্ষ বিষয়। তবে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে উপকার মিলবে, সেটি হলো ‘জাস্ট ইন টাইম অ্যারাইভাল’ নিশ্চিত করা।
এটি কীভাবে নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখবে, সেই বিষয়টিরও ব্যাখ্যা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, একটি জাহাজ হয়তো তার শিডিউল ধরে রাখতে একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছতে চাইল। সেক্ষেত্রে ক্যাপ্টেনকে জাহাজটির গতি বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটি জাহাজ যত দ্রুতগতিতে চালানো হবে, এতে তত বেশি জ্বালানি পুড়বে এবং তা তত বেশি নিঃসরণের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এত কিছুর পর জাহাজটি নির্দিষ্ট বন্দরে পৌঁছে দেখলো যে, সেখানে বার্থিংয়ের জন্য জায়গা নেই। ফলে জাহাজটিকে বন্দরের সেবা পেতে অপেক্ষা করতে হবে।
অথচ গন্তব্যের বন্দরটি কখন ফেয়ারওয়ে, বার্থিং, নটিক্যাল সার্ভিসেস ইত্যাদি সেবা দিতে পারবে, সেটি আগে থেকে জানা থাকলে জাহাজটি সেই অনুযায়ী তার গতি নির্ধারণ করতে পারত। বন্দরের সেবায় বিলম্বের তথ্য আগেই পেয়ে গেলে জাহাজটি গতি কিছুটা কমিয়ে জ্বালানি পোড়ানো কমিয়ে দিতে পারবে। এতে নিঃসরণের পরিমাণও কমে যাবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ‘জাস্ট ইন টাইম অ্যারাইভাল’ নিশ্চিত করা গেলে একটি কনটেইনার জাহাজ কেবল একটি পোর্ট কলেই জ্বালানি ব্যয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। তাহলে জাহাজটি তার যাত্রাপথে যতগুলো পোর্ট কল করবে, সবগুলো মিলিয়ে নিঃসরণ কতটা কমে যাবে তা সহজেই অনুমেয়। এছাড়া যদি জাহাজটি পুরো ২৪ ঘণ্টার জন্য গতি অপ্টিমাইজ করে তাহলে বাড়তি ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ১২ ঘণ্টা অপ্টিমাইজ করলে ৪ দশমিক ২ শতাংশ নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।