বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনার সর্বোচ্চ ফোরাম যৌথ পরামর্শ কমিশনের (জেসিসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল ১৯ জুন।। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বৈঠকে যোগ দিতে ইতিমধ্যে দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। প্রায় দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ, অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টন, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা অংশীদারত্বসহ বেশ কিছু ইস্যুতে আলোচনা হবে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল যোগ দিচ্ছে। সপ্তমবারের মতো অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে ভারতের পক্ষে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর।
এবারের জেসিসি বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিসহ অমীমাংসিত এবং স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তুলবে বাংলাদেশ। নতুন সিপা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রের মধ্যে উচ্চপ্রযুক্তি, বেসামরিক পরমাণু শক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়ে আলোচনা হবে। সেখানে ভারতীয় ঋণের অর্থে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় নিয়েও কথা হতে পারে। বৈঠকে উভয়পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষত বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুসহ নতুন নতুন অনেক ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতার বিষয় উঠে আসার ইঙ্গিত রয়েছে। গত বছরের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় যেসব বিষয় আলোচ্য ছিল, সেগুলোর কোনটার অগ্রগতি কী তা এবারের জেসিসিতে পর্যালোচনা হবে।
এছাড়া জেসিসি বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হবে। চলতি বছর প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করতে পারেন। বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গ তোলাসহ আলোচনাধীন কুশিয়ারা নদীর পানি উত্তোলন বিষয়টিতে সুরাহার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তুতির তাগাদা দেবে ঢাকা।