কানাডায় বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধার (জেনারেল প্রেফারেন্সিয়াল ট্যারিফস) মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হতে যাচ্ছে। দেশটির বাজারে এ সুবিধা বহাল রাখার জন্য আগামী বছরের মধ্যেই নতুন চুক্তির আলোচনা শেষ করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কানাডা-বাংলাদেশ জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন স্ট্রেংদেনিং কমার্শিয়াল রিলেশনস।
বুধবার (২৯ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে ওয়ার্কিং গ্রুপের সুপারিশগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য বার্ষিক কানাডা-বাংলাদেশ ফোরাম আয়োজনের প্রস্তাব করেন কানাডিয়ান কো-চেয়ার নুজহাত-তাম-জামান।
কানাডার দেওয়া সুপারিশগুলোর মধ্যে ভিসা সহজ করা, বাংলাদেশিদের জন্য ইলেকট্রনিক ভিসা চালু, কানাডিয়ান বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের উন্নয়ন বাস্তবতা তুলে ধরা, কানাডা-বাংলাদেশ ক্রস বর্ডার ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট কানাডাকে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী করে তোলার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কো-চেয়ার এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বর্তমানে অনেকগুলো সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদশে ব্যবসার পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।’ তাই কানাডিয়ান উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। বিশেষ করে কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে কানাডার বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান জানান, বাংলাদেশিদের জন্য কানাডিয়ান ভিসা সহজ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
দেশে কানাডিয়ান বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে একশ’ একরের কানাডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন স্থাপনের পরামর্শ দেন কানাডা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদ রহমান। বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে ঢাকায় কানাডিয়ান হাই কমিশনে ভিসা অফিস স্থাপন, দুদেশের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, এফটিএ সই ও একটি পরামর্শক কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।
বাংলাদেশে কানাডিয়ান কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন কানাডিয়ান হাইকমিশনার লিলি নিকোলস।