ইস্তাম্বুলের জয়েন্ট কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের (জেসিসি) পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার সকালে প্রায় ৫৭ হাজার টন খাদ্যশস্য নিয়ে ইউক্রেন ছাড়ে তিনটি বাল্কার জাহাজ। এদিকে ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য আনার জন্য অন্য একটি জাহাজ দেশটির উদ্দেশে যাত্রা করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগর-তীরবর্তী বন্দরগুলো পুরোদমে কার্যক্রম শুরুর উপযোগী হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা গত মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে শস্য রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর সোমবার প্রথমবারের মতো কনভয় আকারে ইউক্রেনের বন্দর ছাড়ে নেভি স্টার, রোজেন ও পোলারনেট নামের তিনটি জাহাজ। দেশটির নিকটবর্তী দুই বন্দর ওডেসা ও কর্নোমর্স্ক থেকে একযোগে যাত্রা করে তারা। জাহাজগুলোকে এসকর্ট করে উন্মুক্ত সাগরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাইনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পার করে দেওয়া হয়। ইউক্রেনের পাইলট ও হারবার ক্রাফটগুলো এই কাজে নেতৃত্ব দেয়।
জাহাজগুলো প্রথমে ইস্তাম্বুল যাবে। সেখানে জেসিসি বাল্কারগুলোয় পরিদর্শন কার্যক্রম চালাবে। তারপর সেগুলো যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও তুরস্কের নির্ধারিত গন্তব্যে যাত্রা করবে।
ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো, ফুলমার এস নামের একটি বাল্কার দেশটির উদ্দেশে যাত্রা করেছে। জাহাজটি কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী কর্নোমর্স্ক বন্দর থেকে শস্য বোঝাই করবে। রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথম কোনো জাহাজ ইউক্রেনে খাদ্যশস্য আনার জন্য যাচ্ছে।

অবশ্য জেসিসির ঘোষণায় না থাকলেও ওসপ্রে এস নামের আরেকটি বাল্কারকে বসফরাস প্রণালী হয়ে উত্তরের দিকে যেতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এই জাহাজটির গন্তব্যও ইউক্রেন।
গত ১ আগস্ট ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে ২৬ হাজার টন ভুট্টা বোঝাই করে লেবাননের পথে রওনা দেয় রাজোনি নামের সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী একটি জাহাজ। তার আগে ২২ জুলাই তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় খাদ্যশস্য পরিবহনের সুযোগ দিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণ সাগরের উপক’লীয় বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছিল রুশ বাহিনী। এরপর ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে দেশটির সাইলোগুলোয় বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের মজুদ জমা হয়।
ইউক্রেনের অবকাঠামো মন্ত্রী ওলেকসান্দার কুবরাকোভ বলেছেন, ‘আমরা আশা করি, জাতিসংঘ ও তুরস্কের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের বন্দরগুলো দিয়ে খাদ্যশস্য রপ্তানি স্থিতিশীল ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা অনুযায়ী থাকবে।’
জাতিসংঘ মানবিক করিডোর দিয়ে মাসে ৫০ লাখ টন শস্য ইউক্রেন থেকে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আর কুবরাকোভ আশা করছেন, মাসে অন্তত ৩০ লাখ টন শস্য রপ্তানি করতে সক্ষম হবেন তারা। এর মাধ্যমে গত মৌসুমের মজুদ হিসেবে থেকে যাওয়া ২ কোটি টনের পাশাপাশি নতুন মৌসুমের শস্যও বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।