এলএনজি রপ্তানিতে গতি আনতে নতুন সাতটি ক্যারিয়ার ভাড়া নেবে কাতারএনার্জি

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আনতে নতুন সাতটি ক্যারিয়ার ভাড়া করবে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি কাতারএনার্জি। এ বিষয়ে সম্প্রতি এশিয়ার চারটি শিপিং কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে তাদের। কোম্পানিগুলো হলো মালয়েশিয়ার এমআইএসসি বারহাদ, জাপানের নিপ্পন ইউসেন কাইশা (এনওয়াইকে) ও কাওয়াসাকি কাইসেন কাইশা (কে লাইন) এবং চায়না এলএনজি শিপিং।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার গ্যাস আমদানিতে পশ্চিমা দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর কাতারের জন্য এলএনজি রপ্তানি বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে দেশটি এলএনজি কার্যক্রম সম্প্রসারণে নজর দিয়েছে। সম্প্রতি কাতার জানিয়েছে, নর্থ ফিল্ড ইস্ট সম্প্রসারণ প্রকল্প চালুর আগেই তারা বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারকের অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছে। আর প্রকল্পটি চালু হলে বাড়তি আরও ৪০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে দেশটি আশা করছে।

প্রতিটি ১ লাখ ৭৪ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার নতুন সাতটি এলএনজি ক্যারিয়ার নির্মাণ করবে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ। এই সাতটিসহ তারা বিভিন্ন শিপিং কোম্পানির কাছ থেকে মোট ১৭টি এলএনজি ক্যারিয়ার নির্মাণের কার্যাদেশ পেল, যেগুলো ভাড়ায় পরিচালিত হবে কাতারএনার্জির সঙ্গে স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীনে।

হুন্দাইয়ের পাওয়া এই নতুন কার্যাদেশের মোট অর্থমূল্য ১৫০ কোটি ডলার। জাহাজগুলো আগামী ২০২৫ ও ২০২৬ সালে সরবরাহ করার কথা রয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এলএনজি ক্যারিয়ারের যে চাহিদা রয়েছে, সে তুলনায় জাহাজ রয়েছে কম। এই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে জ্বালানি কোম্পানিগুলো শিপিং লাইনগুলোর সঙ্গে নতুন নতুন চুক্তি করছে, যার সুবাদে একের পর এক জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ পাচ্ছে কোরিয়া ও চীনের জাহাজনির্মাতারা।

এর আগে কাতারএনার্জি যেসব ক্যারিয়ার ভাড়া নেওয়ার চুক্তি করেছে, সেগুলো সবই একক কোম্পানির সঙ্গে। এই প্রথম কোনো কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তিতে গেল তারা।

কাতারএনার্জির নর্থ ফিল্ড ইস্ট সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বৈশ্বিক এলএনজি খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্প। এর ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার। বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ইতালীয় কোম্পানি এনি ও ব্রিটিশ বহুজাতিক কোম্পানি শেলের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। ২০২৫ সাল নাগাদ প্রকল্পটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here