যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পর্ষদ সদস্যবৃন্দ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে। সোমবার (১৫ আগস্ট) সকালে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমরিাল এম. শাহজাহান, এনপিপি, বিসিজিএমএস, এনডিসি পিএসসি, বিএন ও পর্ষদ সদস্যগণ বন্দর ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বন্দর ভবন চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন। এতে সকল বিভাগীয় প্রধানসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং বন্দর কর্মচারী পরিষদ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে বন্দর চেয়ারম্যান বন্দর কর্মচারী পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত শোক সভা, খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমরা দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম, কিভাবে নেতৃত্ব চলবে, কিভাবে দেশ চলবে । চক্রান্তকারীরা বঙ্গবন্ধুর পর জাতীয় নেতাদের হত্যা করে দেশের ক্ষমতা দখল করেছিল। দীর্ঘ একুশ বছর পর বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে এসেছিলেন।

তিনি আরও বলেন আমরা বাঙ্গালি জাতি বঙ্গবন্ধুর আর্দশে অনুপ্রাণিত ও ঐক্যবদ্ধ। চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী আজকে উপস্থিত হয়ে প্রমাণ করেছে বঙ্গবন্ধুর আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের উন্নয়নে কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন বাংলাদেশের মেরিটাইম এরিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। সে জন্য তিনি স্বাধীনতার পরপরই মেরিটাইম জোন অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাক্ট প্রণয়ন করেছিলেন, যা দিয়ে আমরা ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনোমিক জোন পেয়েছিলাম। যে আইন জাতিসংঘ আরও অনেক সময় পর ১৯৮২ সালে প্রণয়ন করতে পেরেছিল।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা দিয়ে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে বিশ্বের অনেক দেশ আজকে ঈর্ষান্বিত, পাকিস্তানীদের কাছেও বাংলাদেশের উন্নয়ন ঈর্ষার বিষয়।

এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে নিরলসভাবে ও একাগ্রচিত্তে কাজ করার আহ্বান জানান। সভা শেষে তিনি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।

পরে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এ সময় বন্দর চেয়ারম্যান ১৫ আগষ্টে শাহাদাতবরণকারী সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করেন। পরে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও অবদান শীর্ষক বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন।

এ ছাড়া যোহর নামাজের পর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সদস্যগণ ও বিভাগীয় প্রধানগণ বন্দর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে বন্দরের সকল স্থাপনায় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here