গত বছর দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে কনটেইনার বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি ফিডার জাহাজের পাঁচ ক্রুকে স্থগিত কারাদণ্ড ও মোট ২৮ হাজার ডলার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দুবাইয়ের একটি আদালত এই রায় দেন।
২০২১ সালের ২৭ জুন অর্গানিক পারঅক্সাইড ভর্তি তিনটি কনটেইনার চীন থেকে জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এরপর কনটেইনারগুলো টার্মিনাল ইয়ার্ডে রাখ হয়। অর্গানিক পারঅক্সাইড অতিমাত্রায় দাহ্য পদার্থ, যা তীব্র তাপের সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে গ্রীষ্মকালে দুবাইয়ের তাপমাত্রাও থাকে অনেক বেশি। এই অবস্থায় কনটেইনারগুলো টার্মিনাল ইয়ার্ডে পড়ে ছিল দশ দিনের বেশি সময়।
৭ জুলাই রাতে কনটেইনারগুলো ওশান ট্রেডার নামের একটি ফিডার জাহাজে তোলা হচ্ছিল। এ সময় একটি কনটেইনারে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং জাহাজটির ডেকে স্থাপনের কিছুক্ষণ পরই এতে বিস্ফোরণ হয়। সৌভাগ্যক্রমে ওই দুর্ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কেবল পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছিলেন।
যদিও কনটেইনারটি মাত্রই জাহাজে তোলা হয়েছিল এবং সেটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল জাহাজের ডেকে স্থাপনের আগেই, তবুও দুবাইয়ের কৌঁসুলিরা ওশান ট্রেডারের ক্যাপ্টেন ও অন্য চার ক্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। তাদের যুক্তি, জাহাজে কনটেইনার সাজানোর দায়িত্ব মাস্টারের। সুতরাং এই সময়ে ঘটা কোনো দুর্ঘটনার দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
আদালত প্রমাণ পেয়েছেন যে, কনটেইনারগুলো দুবাইয়ের তীব্র সূর্যালোকের নিচে ১২ দিন ফেলে রাখা হয়েছিল। এর ফলে অর্গানিক পারঅক্সাইড কনটেইনারের ভেতরেই ডিকম্পোজড হতে শুরু করে এবং কনটেইনারের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
এদিকে ওশান ট্রেডারের মাস্টার দাবি করেন, তিনি জানতেন না যে কনটেইনারগুলো এতদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে ছিল। বিষয়টি জানা থাকলে তিনি কোনোভাবেই চালানটি গ্রহণ করতেন না। এছাড়া কনটেইনারে যখন আগুনের সূত্রপাত হয়, তখন তিনি বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন বলেও দাবি করেন।
আদালত ওশান ট্রেডারের পাঁচ ক্রুর পাশাপাশি জাহাজটি ও শিপমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ কোম্পানির প্রত্যেককেও ২৮ হাজার ডলার করে জরিমানা করেন।