যুক্তরাজ্যের প্রয়াত রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগদান এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইটটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তিনি সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি দেন।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ব্রিটেনের সাবেক রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগ দিতে লন্ডন যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে শেষকৃত্যে যোগ দেন তিনি।
লন্ডনে আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যান প্রধানমন্ত্রী। নিউইয়র্ক সফরকালে গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এবং সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এদিন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বেও অংশ নেন। এ ছাড়া স্নোভেনিয়ার প্রেসিডেন্ট বরুত পাহরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের হাইকমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি।
পরে গত ২১ সেপ্টেম্বর একুয়েডরের প্রেসিডেন্ট গুইলেমে ল্যাসো মেন্ডেজো, কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভিজোসা ওসমানী সাদ্রিউর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেদিন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে ‘টেকসই গৃহায়ন’ বিষয়ে একটি অনুষ্ঠান এবং ‘গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন’ শীর্ষক সভায় অংশ নেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পদ্মা সেতুর স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণসহ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ যৌথ ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে গোলটেবিল এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হু সেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এছাড়া তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইওএমের মহাপরিচালক অ্যান্তেনিও ভিটোরিনো এবং আইসিসি প্রসিকিউটর নিক ক্লেগ ও করিম খান।
এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরাবরের মতো বাংলায় ভাষণে তিনি জবরদস্তিমূলক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞার মতো বৈরী পন্থা পরিহার করে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকট ও বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভার্চুয়ালি যোগ দেন শেখ হাসিনা। এরপর বিকালে নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যান এবং ২ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী।