মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পারমিট, অনাপত্তি বা পূর্বানুমতি ছাড়া মাদকদ্রব্য আমদানির জন্য এলসি ইস্যু না করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ, মাদক-১ শাখা হতে ইস্যু করা চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত-২০২০) এর ১ম তফশিলে ‘ক’ ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইনের ৯, ১০ ও ১১ ধারা অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া তফসিলে বর্ণিত মাদকদ্রব্য আমদানি, সংরক্ষণ, ব্যবহার, গুদামজাতকরণ, সরবরাহ, বিপণন, ক্রয়, বিক্রয়, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন, পরিবহন ও স্থানান্তরের কোনো সুযোগ নেই।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এলসির মাধ্যমে আইনের তফসিলভুক্ত মাদকদ্রব্য বিদেশ থেকে আমদানি করে বাজারজাত করছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে আমদানিকৃত মাদকদ্রব্য অপব্যবহার করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) এর ৯, ১০ ও ১১ ধারা অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স বা পারমিট বা অনাপত্তি বা অনুমতি ছাড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত ‘ক’ ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য স্থল, আকাশ বা সমুদ্রপথে আমদানির জন্য কোনও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে তফসিলি ব্যাংক থেকে এলসি ইস্যু না করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের সব ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারকে একটি চিঠি পাঠায়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব জিহাদ উদ্দিন সই করা চিঠিতে বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গভর্নরকে অনুরোধ করা হয়। চিঠি পাওয়ার পর আজ বুধবার দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে লাইসেন্স ছাড়া মাদকদ্রব্যের আমদানি এলসি না খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।