বৈশ্বিক জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ইয়ার্ডগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিল (বিমকো)। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনুমোদনপ্রাপ্ত শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডগুলো যেভাবে বড় জাহাজ ভাঙ্গার সুযোগ পাচ্ছে, অনুমোদনের বাইরে থাকা ইয়ার্ডগুলো তা পাচ্ছে না। এ অবস্থায় ইইউর তালিকার বাইরে থাকা ইয়ার্ডগুলোর দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিমকো।
কয়েক বছর আগে ইইউ একটি কঠোর আইন জারি করে, যেখানে ইইউর দেশগুলোয় মালিকানাধীন অথবা সেখানে নিবন্ধিত জাহাজগুলো ভাঙ্গার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়। এর মধ্যে একটি শর্ত হলো, ৫০০ গ্রস টনের বেশি ধারণক্ষমতার জাহাজগুলো ভাঙ্গার ক্ষেত্রে রিসাইক্লিং সাইটের অবশ্যই ইইউর নিবন্ধন বা অনুমোদন থাকতে হবে।
বর্তমানে এই নিবন্ধন রয়েছে তুরস্কের আলিয়াগার বিভিন্ন ইয়ার্ড ও ইউরোপের কিছু বিশেষায়িত ইয়ার্ডে। অবশ্য সম্প্রতি তুরস্কের দুটি ইয়ার্ড মানদণ্ড অনুসরণ করতে না পারায় ইইউর অনুমোদন হারিয়েছে।
এক বিবৃতিতে বিমকোর মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডেভিড লুজলি বলেছেন, ‘ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো শীর্ষ রিসাইক্লিং স্টেটের ইয়ার্ডগুলো এখনো ইইউর তালিকা স্থান পায়নি। ফলে এসব দেশের ইয়ার্ডগুলো ইউরোপীয় মালিকানার ও নিবন্ধনপ্রাপ্ত বড় বড় জাহাজগুলো ভাঙ্গার সুযোগ পাচ্ছে না। আমরা মনে করি, যেসব ইয়ার্ড হংকং কনভেনশনের মানদণ্ড অর্জন করবে, তাদের যত সম্ভব দ্রুত অনুমোদন দেওয়া দরকার ইইউর।’
বিমকো যুক্তি দেখিয়েছে, এশিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অনেক ইয়ার্ড তাদের সক্ষমতার আধুনিকায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের অনেকেই ইইউর নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এ কারণে জোটটির এখন এসব ইয়ার্ডের দিকে নজর দেওয়া দরকার।