ব্রুনাইয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অর্থমন্ত্রী দাতো সেরি সেটিয়া ড. আওয়াং হাজী মোহাম্মদ আমিন লিউ আবদুল্লাহ তার দেশের বন্দরকে ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে ব্যবহারের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সাথে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
ব্রনাইয়ের অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্রুনাইয়ের বন্দর ব্যবহার করলে চীনের সঙ্গে দূরত্ব অনেক কমবে। এতে খরচ ও সময় সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, সরকারের বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার কারণে বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে আদর্শ গন্তব্য। এদেশে কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি চীন-ভারতের ২৭০ কোটি মানুষের বাজারও ধরা যাবে। দুটি দেশেই বেশিরভাগ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ব্রুনাইকে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি মানবসম্পদ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর জন্য আলাদা একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তুাব দিয়ে ব্রুনাইকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান শাহরিয়ার আলম।
বৈঠকে বাংলাদেশকে পরবর্তী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিতে ব্রুনাইয়ের অর্থমন্ত্রীকে আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর, একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক, ট্যুরিজম পার্ক, নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, এলএনজি টার্মিনালসহ পুরো দেশকে সড়ক ও রেলপথে সংযুক্ত করার প্রকল্প চলছে। বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রগতির চিত্র অতীতের তুলনায় অনেক ভিন্ন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশের ব্রুনাইয়ের হালাল খাদ্যপণ্য বিপণনে দেশটির ঘানিম ইন্টারন্যাশনাল ও বাংলাদেশের জেডইএস ট্রেডিংয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সই হয়। ঘানিম ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে সিইও ড. নূর রহমান ও জেডইএস ট্রেডিংয়ের পক্ষে এফবিসিসিআই পরিচালক ড. কাজী এরতেজা হাসান চুক্তিতে সই করেন।