বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাক উৎপাদন বাড়ানোতে মনোযোগ : বিজিএমইএ

দেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পোশাক কারখানাগুলো উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিজিএমইএ আয়োজিত নেটওয়ার্ক টু ইন্টিগ্রেট প্রোডাক্টিভিটি অ্যান্ড অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ (নিপোশ) প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে প্রবৃদ্ধির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সামনের প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগাতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, যেখানে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি অগ্রাধিকারে থাকবে, কারণ আমরা উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের গার্মেন্ট শিল্পকে নিরাপদ, পরিবেশ ও শ্রমিকবান্ধব করতে বিজিএমইএ কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগামীতে একশ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিজিএমইএ। সবার সহযোগিতা পেলে আমাদের এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।”

নিপোশ প্রকল্পটি উদ্ভাবন এবং দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিজিএমইএর প্রথম ধাপ উল্লেখ করে ফারুক হাসান বলেন, বিজিএমইএ কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে ওএইচএস উদ্যোগ নিয়েছে, যা উত্পাদনশীলতা, শিল্প প্রকৌশল, পণ্য উন্নয়ন, শিল্পের স্থায়ীত্ব এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে।

প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে ঢাকায় ডেনমার্ক দূতাবাস।

ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ডেনমার্ক (এসডিইউ), বিজিএমইএ, সেন্টার অব এফিসিয়েন্সি, ইনোভেশন এবং ওএসএইচ-বিজিএমইএ এবং আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এউএসটি) যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

অনুষ্ঠানে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসেন, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য মুহাম্মদ ফজলি ইলাহী, ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ডেনমার্কের অধ্যাপক পিটার হাসল, ড্যানিশ দূতাবাসের সেক্টর কাউন্সেলর সোরেন অ্যালবার্টসেন, বিজিএমইএর পরিচালক আবদুল্লাহিল রাকিব এবং আইই বিভাগের স্থায়ী কমিটির সভাপতি এসএম খালেদ উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রকল্পে ২৫টি পোশাক কারখানা অংশ নিয়েছে। প্রকল্প চলাকালীন অংশগ্রহণকারী কারখানাগুলোতে মোট ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ দক্ষতার উন্নয়ন হয়েছে এবং পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়ন হয়েছে ১৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অনুষ্ঠানে ২৫টি পরিবেশ ও শ্রমিকবান্ধব গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here