চার দশকের সর্বোচ্চ উচ্চতায় মূল্যস্ফীতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়াচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভ। এ অবস্থায় ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন মার্কিন ভোক্তারা। ক্রয়াদেশ বাতিল করছে রিটেইলাররা। বন্দরগুলোয় কনটেইনার আমদানির সংখ্যাও ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। এই প্রবণতা মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে প্রশ্ন থাকলেও এর একটি ইতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা সাপ্লাই চেইনের জটিলতা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এতে করে।
গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরজুড়ে কনটেইনার আমদানি রেকর্ড উচ্চতায় উঠে গিয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে কমতে কমতে সেপ্টেম্বরে বড় পতনই দেখা গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে মোট আমদানির ২৫ শতাংশ সম্পন্ন হয় কনটেইনারে করে। আর বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে এই বাজারের অবদান ৭০ শতাংশ। করোনা মহামারির স্থবিরতা কাটিয়ে ভোক্তাবাজার চাঙ্গা হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কনটেইনার আমদানি ২০১৯ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে করে সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপরও চাপ তৈরি হয়।
আকাশীচুম্বী ভোক্তা চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয় খুচরা বিক্রেতা ও আমদানিকারকদের। দ্রæত সময়ের মধ্যে ক্রয়াদেশ গ্রহণ করতে গিয়ে সাপ্লাই চেইনে জট তৈরি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন টাস্কফোর্স গঠন করে এবং কিছু বন্দরে টানা ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেয়।
তবে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় মার্কিন ভোক্তারা এখন ব্যয় সাশ্রয়ের পথে হাঁটছেন। ফলে আসন্ন উৎসবের মৌসুমে খুচরা বিক্রি স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চাহিদা কম থাকায় রিটেইলাররা আমদানিও কমিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টি সাপ্লাই চেইনের জট কাটাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।