কোভিডের ধাক্কার পর বিশ্ব অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, তখনই শুরু হলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। তার প্রভাবে আবারও মন্দার কিনারে উন্নত দেশগুলো। সে তুলনায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ভালো আছে, যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস হ্রাস করেছে।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পূর্বাভাস শুক্রবার প্রকাশ করেছে আইএমএফ। সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২২ সালে (পঞ্জিকাবর্ষ) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। তবে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রবৃদ্ধির হার আরও কমবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়াবে ৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও চলতি মাসের ১০-১৬ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের যৌথ বৈঠকের সময়ও আইএমএফ বাংলাদেশ সম্পর্কে একই পূর্বাভাস করা হয়েছিল।
আর চলতি ও পরের বছরে এশিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে যথাক্রমে ৪ ও ৪ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে, যা গত এপ্রিলে দেওয়া পূর্বাভাসের চেয়ে যথাক্রমে দশমিক ৯ ও দশমিক ৮ পয়েন্ট কম। ২০২১ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৬ শতাংশ।
আইএমএফ বলছে, চলতি বছর চীনের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, যা এপ্রিলের পূর্বাভাসের চেয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ কম। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি আগামী বছর ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো পুঁজির দ্রুত বহির্গমন এড়াতে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা দেখাতে হবে, তাহলে কিছু দেশে মুদ্রানীতির ওপর চেপে থাকা বোঝা কমতে পারে।
প্রতিবেদনের পূর্বাভাস, ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়াতে পারে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।