দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। দিনের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১মিনিটে বন্দরের জল সীমায় থাকা অবস্থান করা সকল জাহাজ ও জলযানসমূহ এক নাগাড়ে ১ মিনিট হুইসেল বাজানোর মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুরু হয়। এছাড়া বন্দর চ্যানেলে অবস্থানরত জাহাজ ও জলযানসমূহে রঙ্গিন পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়।
সকালে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে চট্টগ্রাম বন্দর র্কৃপক্ষের সকল দপ্তর, আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাবসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বন্দর রিপাবলিক ক্লাব প্রাঙ্গণে স্মৃতিস্তম্ভে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং পুস্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে বন্দরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০ টায় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার বিষয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রর্দশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে বন্দর চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান, এনপিপি, বিসিজিএমএস, এনডিসি, পিএসসি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মিত হচ্ছে, টানেল নির্মাণ হয়েছে, মেট্রোরেল কিছু দিনের মধ্যে চালু হবে। বঙ্গবন্ধু জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করে একটি দেশ আমাদেরকে উপহার দিয়েছেন বলে আমরা আজ সরকারি উচ্চ পদের অধিষ্ঠিত হতে পেরেছি। বাংলাদেশ আজ সত্যিকারে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিনত হয়েছে, মানীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
দুপুরে যোহরের নামাজের পর বন্দর চেয়ারম্যান. সদস্যগণ ও বিভাগীয় প্রধানগণ ৮নং সড়কস্থ বন্দর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্নার মাগফেরাত, মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বন্দরের আওতাধীন সকল মসজিদ, এবাদতখানা, মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। বন্দর হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ রোগীদের উন্নতমানরে খাদ্য পরিবেশন করা হয়। বিকালে বন্দরের শহীদ প্রকৌশলী সামশুজ্জামান স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম বন্দর অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ও বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।