বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক পরিবেশবান্ধব কারখানার মুকুট এখন বাংলাদেশের। চলতি ডিসেম্বর মাসে নতুন করে দুটি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব কারখানার সনদ পেয়েছে। আর তাতে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব তৈরি পোশাক ও বস্ত্র কারখানার সংখ্যা বেড়ে ১৮০-তে দাঁড়াল। পাইপলাইনে পাঁচ শতাধিক পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
চলতি বছর তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের মোট ২৭ প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব কারখানার সনদ পেয়েছে। তার মধ্যে চলতি মাসে নতুন যে দুটি কারখানা পরিবেশবান্ধব কারখানার সনদ পেয়েছে, সেগুলো হচ্ছে ঢাকার ভিক্টোরিয়া ইনটিমেটস ও ময়মনসিংহের ড্রেসডেন টেক্সটাইল। দুটি প্রতিষ্ঠানই লিড গোল্ড সনদ পেয়েছে।
বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। তারা ‘লিড’ নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। সনদটি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। এ জন্য নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরোনো ভবন সংস্কার করে আবেদন করা যায়।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএসজিবিসি। সংস্থাটির অধীনে কলকারখানার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, বাড়ি, বিক্রয়কেন্দ্র, প্রার্থনার কেন্দ্র ইত্যাদি পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা যায়। লিড সনদের জন্য ৯টি শর্ত পরিপালনে মোট ১১০ পয়েন্ট আছে। এর মধ্যে পয়েন্ট ৮০-এর ওপরে হলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ হলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ হলে ‘লিড সিলভার’ এবং ৪০-৪৯ হলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ মেলে। বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব স্থাপনাগুলো অধিকাংশই ইউএসজিবিসির অধীনে সনদ পেয়েছে।
বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে লিড সনদ পাওয়া ১৮০ পোশাক ও বস্ত্র কারখানার মধ্যে ৫৮টি লিড প্লাটিনাম, ১০৮ গোল্ড, ১০ সিলভার ও ৪টি সার্টিফায়েড সনদ পেয়েছে।