চীনকে ছাড়িয়ে ইইউর শীর্ষ পোশাক সরবরাহকারী বাংলাদেশ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীনের বাজার থেকে সবচেয়ে বেশি পোশাক আমদানি করে। কিন্তু চলতি বছরের নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) দেশটিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের পণ্যের পরিমাণের তথ্য বিশ্লেষণ করে এটি জানা গেছে।

ইইউভুক্ত ২৭টি দেশ বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পোশাক পণ্য বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশ থেকে এসব দেশের আমদানি করা পোশাকের অর্থমূল্য ছিল সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এ সময় বাংলাদেশী তৈরি পোশাকের কেজিপ্রতি মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। পরিমাণ বিবেচনায় এ সময় চীনের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে বেশি আমদানি করেছে।

ইউরোস্ট্যাট সম্প্রতি ইইউর জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর মাসের পোশাক আমদানি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, এ নয় মাসে সারা বিশ্ব থেকে ইইউর দেশগুলো ৩৪৭ কোটি ৭ লাখ ৭৭ হাজার কেজি পোশাক আমদানি করেছে। প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। যার পরিমাণ ছিল ১০২ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার কেজি। পরিমাণের দিক থেকে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। আমদানি করা পোশাকের অর্থমূল্য ছিল ১ হাজার ৭৫৫ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অর্থমূল্যের দিক থেকে প্রবৃদ্ধি এসেছে ৪৩ দশমিক ২১ শতাংশ।

বাংলাদেশের পরই সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে চীন থেকে। নয় মাসে দেশটি ৯৭ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার কেজি পোশাক ইইউর বাজারে সরবরাহ করে। আমদানিতে প্রবৃদ্ধি এসেছে ১৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

আমদানিতে তৃতীয় অবস্থানে আছে তুরস্ক। নয় মাসে দেশটি থেকে ইইউর আমদানি ছিল ৩৬ কোটি ২০ হাজার কেজি। এছাড়া পাকিস্তান ২০ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার কেজি, ভারত থেকে ১৬ কোটি ৯৭ লাখ কেজি, কম্বোডিয়া থেকে ১২ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার কেজি, ভিয়েতনাম থেকে ১০ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার কেজি, মরক্কো থেকে ৮ কোটি কেজি, শ্রীলংকা থেকে ৪ কোটি কেজি ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৬০ হাজার কেজি পোশাক আমদানি করেছে ইইউ।

ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পুরো বিশ্ব থেকে নয় মাসে আমদানি করা পোশাকের কেজিপ্রতি মূল্য ছিল ২২ দশমিক ৪১ ডলার। বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের কেজিপ্রতি মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ১৭ দশমিক শূন্য ৮ ডলার। ২০২১ সালের একই সময় কেজিপ্রতি মূল্য ছিল ১৫ দশমিক ২৮ ডলার। চীন থেকে আমদানি করা পোশাকের কেজিপ্রতি মূল্য বেড়েছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ইউরোস্ট্যাট বলছে, ইইউ পোশাক কিনে এমন প্রধান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই আমদানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। ওই বাজারে সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী চীন। দেশটি থেকে আমদানি প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। তৃতীয় বড় উৎস তুরস্ক থেকে পোশাক আমদানি প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ইইউর পোশাক আমদানির অন্য প্রধান দেশগুলোর মধ্যে আছে ভারত, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়া। নয় মাসে দেশগুলো থেকে আমদানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৮৫, ৪১ দশমিক শূন্য ৮, ২৯ দশমিক ৬৫, ৩০ দশমিক ৭৬, ১২ দশমিক ৩২, ১৭ দশমিক ২৭ এবং ৩৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here