বিদায়ী ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানি অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। সাধারণত এশিয়ার দেশগুলো এলএনজির সবচেয়ে বড় আমদানিকারক হলেও সম্ভাব্য ঘাটতি এড়াতে আমদানির পরিমাণ রেকর্ড মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপ। অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধেও পিছপা হচ্ছে না তারা। ফলে এশিয়ার পরিবর্তে রপ্তানিকারকদের পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠছে এ অঞ্চল। অন্যদিকে ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে এশিয়ার বেশিরভাগ দেশই আমদানি কমাতে বাধ্য হয়েছে।
রেফিনিটিভের তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে বৈশ্বিক এলএনজি আমদানি বেড়ে ৪০ কোটি ৯০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৮ কোটি ৬৫ লাখ টন। এদিকে কেপলারের তথ্যমতে, ২০২২ সালে এলএনজি আমদানির পরিমাণ ছিল ৪০ কোটি ৫ লাখ টন, ২০২১ সালে যা ছিল ৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টন।
গত বছর এশিয়ার এলএনজি আমদানি বাজারে বড় রদবদল পরিলক্ষিত হয়েছে। এমনিতে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় এলএনজি আমদানিকারক চীন। কিন্তু গত বছর দেশটিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে জাপান।
কেপলারের তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে চীন ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছে। ২০২১ সালের তুলনায় তা ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ কম। অবশ্য জাপানের আমদানিও কমেছে। ২০২১ সালে দেশটি ৭ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টন আমদানি করেছিল। সেখানে গত বছর দেশটির আমদানির পরিমাণ ৭ কোটি ৩৬ লাখ ১০ হাজার টন কম।
আমদানিতে শীর্ষে ইইউ: এলএনজি আমদানিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ২০২২ সালে ব্লকটির আমদানি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৫৮ শতাংশ।
রেফিনিটিভের তথ্য অনুসারে, গত বছর ইইউর দেশগুলোয় এলএনজি আমদানির পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ১০ লাখ টন। এর সুবাদে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার আমদানিকে ছাড়িয়ে গেছে অঞ্চলটি। ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে মোট যে পরিমাণ এলএনজি আমদানি হয়েছে, তার ২৪ শতাংশ কিনেছে ইইউ। এ সময় চীনের আমদানি হিস্যা ১৫ ও জাপানের ১৭ শতাংশ। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার আমদানি ছিল ১১ শতাংশ।
ইইউর মোট আমদানির সিংহভাগই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটি ইইউতে ৫ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টন এলএনজি সরবরাহ করেছে, ২০২১ সালে যা ছিল ২ কোটি ১৫ লাখ টন।
রপ্তানিতে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র: কাতারের পাশাপাশি এলএনজি রপ্তানিতে শীর্ষে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সালে দেশটি ৮ কোটি ১২ লাখ টন এলএনজি রপ্তানি করেছে, যা কাতারের সমান।
২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিপোর্টের এলএনজি অবকাঠামোয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে সেটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে দৈনিক ২০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রপ্তানি কমে যায়। এই সমস্যায় না পড়লে এলএনজি রপ্তানিতে কাতারকে ছাড়িয়ে যেতে পারত যুক্তরাষ্ট্র।