বিশ্বে সমুদ্রের নির্জনতম স্থানেও বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত

বিশ্বের অন্যতম নির্জন ও গভীর একটি স্থান হলো অ্যাটাকামা ট্রেঞ্চ। প্রশান্ত মহাসাগরের এই স্থানে সম্প্রতি পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইলের (পিসিবি) উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। নির্জন এলাকায় বিষাক্ত এই পদার্থ পাওয়ার অর্থ হলো, পৃথিবীতে কোনো জায়গাই হয়তো দূষণ থেকে মুক্ত নয়।

পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল ১৯৩০ থেকে ১৯৭০-এর দশকের মধ্যে অতিমাত্রায় উৎপাদিত হতো। বিশেষ করে উত্তর গোলার্ধে। বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রং, কুল্যান্টসহ আরও অনেক পণ্যে পিসিবি ব্যবহৃত হতো। তবে ১৯৬০-এর দশকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয় যে, পিসিবি সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য অতিমাত্রায় ক্ষতিকর। এ কারণে ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় সমগ্র বিশ্বেই পিসিবির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল বা পিসিবি ভেঙ্গে যেতে কয়েক দশক পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এছাড়া সমুদ্রের স্রোত, বাতাস বা নদীর মাধ্যমে এগুলো এক স্থান থেকে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা যে অ্যাটাকামা ট্রেঞ্চে গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন, সেটি দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলজুড়ে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত। এর সবচেয়ে গভীর অংশের গভীরতা প্রায় হিমালয়ের উচ্চতার সমান। গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা নমুনা হিসেবে আড়াই হাজার থেকে ৮ হাজার মিটার পর্যন্ত বিভিন্ন গভীরতার পাঁচটি জায়গা থেকে পলি সংগ্রহ করেছেন। তারা প্রতিটি জায়গাকে আবার পাঁচটি স্তরে ভাগ করেছেন। উপরের স্তরের পলি থেকে শুরু করে গভীর কাদার স্তর পর্যন্ত এই পাঁচটি স্তরেই পিসিবির উপস্থিতি পেয়েছেন তারা।

অ্যাটাকামা ট্রেঞ্চের মতো জায়গায় মানুষের কার্যক্রম খুব বেশি নেই। তারপরও সেখানে দূষকের উপস্থিতি পাওয়া গেল। আসলে সমুদ্রের এই ধরনের গভীর স্থানে আশেপাশের অঞ্চল থেকে শীতল পানির স্রোতের সঙ্গে বিভিন্ন প্ল্যাঙ্কটনও ভেসে আসে। এই প্ল্যাঙ্কটনগুলো অনেক সময় পিসিবির মতো দূষক বহন করে। সেগুলো যখন মারা যায়, তখন তাদের কোষগুলো পচে গেলেও শরীরে থাকা পিসিবি সমুদ্রের তলায় গিয়ে জমা হয়।

এই গবেষণা থেকেই প্রমাণ হয়, কোনো একটি জায়গায় সামুদ্রিক দূষণের জন্য সেখানে মানুষের সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। বরং সামুদ্রিক স্রোত বা প্রাণবৈচিত্র্যের মাধ্যমেও এক জায়গার দূষক অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হতে পারে। সুতরাং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে বিষাক্ত পদার্থের ব্যবহার বন্ধ করার কোনো বিকল্প নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here