সুয়েজ খালে ফের জাহাজ আটকা, কয়েক ঘণ্টায় মুক্ত

সুয়েজ খালে আবারও জাহাজ আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার (গ্রিনিচ মান সময়) দিকে শিন হাই তোং ২৩ নামের হংকংয়ের পতাকাবাহী একটি বাল্ক ক্যারিয়ার সুয়েজ খালের দক্ষিণ মুখের একটু ভেতরে আটকে যায়। এ সময় জাহাজটির পেছনে আরও কয়েকটি জাহাজ আটকা পড়ে। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দুটি টাগবোটের সহায়তায় ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই বাল্কারটিকে পুনরায় পানিতে ভাসানো সম্ভব হয়।

অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পোল স্টার জানিয়েছে, দক্ষিণ প্রান্ত থেকে সুয়েজ খালে প্রবেশের কিছু সময় পরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালের সরু অংশে আটকে যায় ১৯০ মিটার দীর্ঘ বাল্ক ক্যারিয়ারটি। ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, এ সময় চ্যানেলটিতে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। সুয়েজ খালে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী লেথ এজেন্সিজ জানিয়েছে, খবর পেয়ে খাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত দুটি টাগবোট সেখানে পাঠায়।

সুয়েজ খালে জাহাজ আটকা পড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শিপিং খাতের জন্য অন্যতম মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জানুয়ারিতে ৬৫ হাজার টন ইউক্রেনীয় গম নিয়ে খালটিতে আটকা পড়ে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার। গত বছরের আগস্টে খালের দক্ষিণমুখী লেনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আড়াআড়িভাবে আটকা পড়ে আফরাম্যাক্স ট্যাংকার অ্যাফিনিটি ফাইভ। তবে এসব ঘটনায় জাহাজ চলাচল খুব বেশি সময় বন্ধ থাকেনি, যেমনটি ছিল এভার গিভেনের সময়। ২০২১ সালের ২৩ মার্চ লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার সময় খালে আড়াআড়িভাবে আটকা পড়ে এভারগ্রিন মেরিনের মালিকানাধীন ২০ হাজার টিইইউ কনটেইনার ধারণক্ষমতার জাহাজ এভার গিভেন। ৪০০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি ছয়দিন পর মুক্ত হয়। এভার গিভেন আটকা পড়ায় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই শিপিং চ্যানেল দিয়ে ছয়দিন জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল, যার ফলশ্রুতিতে দুই শতাধিক জাহাজ খালের দুই পাশে আটকা পড়ে। ওই ঘটনা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের সংযোগকারী সুয়েজ খাল মিশরের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। মোট বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পণ্য খালটি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here