মহামারি-উত্তর সময়ে ভোক্তাচাহিদার ঊর্ধ্বগতির সুবাদে কনটেইনার পরিবহন খাতে যে চাঙ্গাভাব তৈরি হয়েছিল, এখন তা অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। এর ফলশ্রুতিতে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বেশিরভাগ শিপিং কোম্পানির মুনাফা সক্ষমতায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। টানা সাত প্রান্তিক রেকর্ড আয়ের পর গত তিন প্রান্তিকে পতনমুখী কনটেইনার পরিবহন খাত। তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেও আশার কথা শোনাচ্ছেন জন ম্যাককাউন। এই শিপিং বিশ্লেষকের মতে, ২০২৩ সালটা কনটেইনার লাইনারগুলো মুনাফার মধ্য দিয়েই কাটাবে।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কনটেইনার শিপিং খাতে নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের ৫ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার মুনাফার তুলনায় তা ৪ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার বা ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ কম। তবে এই তথ্য সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারছে না বলে মনে করছেন জন ম্যাককাউন। এর পেছনে কিছু যুক্তিও তুলে ধরেছেন তিনি।
ম্যাককাউনের মতে, মোট আয় ও মুনাফার আনুপাতিক হিসাব বিবেচনায় নিলে প্রথম প্রান্তিকের পরিসংখ্যান মহামারি-পূর্ব সময়ের তুলনায় যথেষ্টই ইতিবাচক। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চার বছরে কনটেইনার শিপিং খাতে সম্মিলিত লোকসান হয়েছিল ৮৫০ কোটি ডলার। এ সময়ে খাতটির মোট রাজস্ব আয় ছিল ৬৮ হাজার ১২০ কোটি ডলার। মুনাফা ও রাজস্ব আয়ের মার্জিন ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মার্জিন ছিল ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিশ্বজুড়ে মোট ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৭৫ হাজার ৯১৩ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা গত বছরের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ কম।